বাজারের ব্যাগে পণ্য কমছে খরচ বাড়ছেই
বাজারে পণ্যের তালিকা আগের মতোই থাকলেও খরচের হিসাব আর মিলছে না। তেল আটা-ময়দা মসলা সবজি থেকে শুরু করে মাছ মাংস ডিম ও দুধ—নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছে নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলো। কোনো কোনো পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও অন্য পণ্যের বাড়তি দাম সেই স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে।মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের বাজারদর বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বাজারের ব্যাগে একের পর এক প্রয়োজনীয় পণ্য ঢুকলেও মাসের বাজেট ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক পরিবারকে এখন কেনাকাটার তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাজারে খোলা আটা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা এবং প্যাকেট আটা ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে। খোলা ময়দা ৭০ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৮০ থেকে ৯০ টাকা। এক মাস আগে প্যাকেট ময়দার দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা।ভোজ্য তেলের বাজারেও বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২০৪ টাকা। দুই লিটার ৪১০ টাকা এবং পাঁচ লিটার বোতল ১ হাজার টাকা। এক বছর আগে এসব তেলের দাম ছিল তুলনামূলক কম। ফলে নিয়মিত রান্নার এই পণ্য কিনতেই পরিবারগুলোর বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।মসলার বাজারেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি চাপ। আমদানি করা রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেজপাতার দাম উঠেছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে। এক বছর আগে তেজপাতা বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২২৫ টাকায়।সবজির বাজারেও স্বস্তি সীমিত। কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা বেগুন ৯০ থেকে ১২০ টাকা এবং শসা ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় কাঁচা মরিচের দাম কমেছে। তখন কেজিপ্রতি দাম ছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকা।চাল ও ডালের বাজার অবশ্য তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। সরু চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডালের দাম মানভেদে ৯৫ থেকে ১৬০ টাকা।আড়ও পড়ুন,জিটুজি ব্যবস্থায় ইউরিয়া সার আমদানির দুই প্রস্তাব অনুমোদনতবে পরিবারের মাসিক বাজার শুধু চাল ডালে সীমাবদ্ধ নয়। মাছ মাংস ডিম দুধসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যোগ হওয়ায় সামগ্রিক ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।বর্তমানে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা হালি।
বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে বলেই খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে। তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত লাভের জন্য ইচ্ছামতো দাম বাড়ানো হচ্ছে না।