বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে করাচিতে রাজনৈতিক বিধিনিষেধ

রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে করাচিতে রাজনৈতিক বিধিনিষেধ

পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জনদুর্ভোগ কমানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) করাচির কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভির জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শহরের প্রধান সড়ক, মোড় ও চত্বরগুলোতে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও মিছিলের কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল, জরুরি সেবা এবং হাসপাতালে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় করাচি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল এবং পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনশান্তি বজায় রাখা,আরও পড়ুন,রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার জেরে ফ্লাইট বন্ধ, সৌদি আরব ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার পরামর্শনাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবার যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই করাচি প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত এলো। এর আগে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি এবং প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতা সোহেল আফ্রিদিকে গ্রেপ্তারের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ ছাড়া পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। তাঁর কারাবাস এবং দলটির নেতাদের ঘিরে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে করাচিতে ১৪৪ ধারা জারির মাধ্যমে জনসমাগম ও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় প্রশাসন। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকাকালে শহরের স্বাভাবিক জনজীবন ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর এর কী প্রভাব পড়ে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ

সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। মীর শাহে আলম বলেন, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর ও নড়াইলসহ কয়েকটি জেলায় সারের কৃত্রিম সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, এসব এলাকায় রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। এর আগে গত আগস্টেও প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কিছু কৃষকের আগাম সার কেনা এবং কয়েকজন ডিলারের সময়মতো সার উত্তোলন ও বিতরণ না করার কারণে সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে তখন তিনি জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবারের বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনারও জবাব দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করা এবং দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। আড়ও পড়ুন,ডোপ টেস্টে পজিটিভ হলে নির্বাচনে অযোগ্য করার বিধান চেয়ে রুলএকই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলকে সমস্যা সমাধানে সংসদে সুচিন্তিত প্রস্তাব উপস্থাপনের আহ্বান জানান।দেশে সারের সংকট নেই দাবি করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সরকারের কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম সারের সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি জেলায় এমন পরিস্থিতির কথা শোনা যাচ্ছে। তবে এর পক্ষে তিনি কোনো পৃথক তদন্ত বা প্রশাসনিক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেননি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বরতেল-গ্যাসের দাম ও সরবরাহ নিয়েও কথা বলেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগ

তুলতেই কৌঁসুলিকে থামালেন বিচারক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রিমান্ড শুনানি হয়েছে। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে শুনানি হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুললে বিচারক তাকে মামলার মূল ঘটনা নিয়ে কথা বলতে বলেন।রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয়। ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন।সোমবার দুপুরে নজরুল ইসলাম ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দিলেও আসামিপক্ষ তা বাতিল করে জামিনের আবেদন করে।আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান আদালতে বলেন, নজরুল ইসলাম চারবারের এমপি এবং বয়স্ক ব্যক্তি। তার দাবি, রিমান্ডে নেওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রাষ্ট্রপক্ষ দেখাতে পারেনি। তিনি তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে জামিনের আবেদন করেন।অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ করেন, মরিয়মকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় ছিল এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।শুনানির এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরলে বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “এ মামলার ঘটনায় থাকি। পলিটিকাল বিষয়ে না যাই।আড়ও পড়ুন,লংমার্চের সময় বিদেশে জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্য এরপর তিনি মামলার অভিযোগ ও তদন্তের প্রয়োজনীয়তার মধ্যেই বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন।উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এদিকে এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেছেন, গত জুনে নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে পরিবারের কাছে মরিয়ম জানিয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।এর আগে জুলাইয়ে একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে নজরুল ইসলাম ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিকস্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় এখন আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। রিমান্ডে পুলিশ ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করবে।

 তুলতেই কৌঁসুলিকে থামালেন বিচারক