বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি বিক্রিতে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি বিক্রিতে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

প্রায় ১৩ কোটি টাকার শুল্ক-কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল স্থানীয় বাজারে বিক্রি এবং ৫২৫টি মেশিনারিজ আমদানিতে অনিয়মের মাধ্যমে এই রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চলছে। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট কত টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, তা নিরূপণের কাজও চলমান রয়েছে। অধিদপ্তরের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, চীন ও ভারত থেকে বন্ড এবং ফ্রি অব কস্ট বা এফওসি সুবিধায় তিনটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৩৭ টন কাঁচামাল আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি। এসব কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা। আরও পড়ুন,নিত্যপণ্যের দামে চাপে সাধারণ ক্রেতানিত্যপণ্যের দামে চাপে সাধারণ ক্রেতাএর বিপরীতে নির্ধারিত শুল্ক-কর প্রায় ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, আমদানি করা এসব কাঁচামাল রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে বন্ড রেজিস্টারে উল্লেখিত স্থানে কাঁচামাল পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানির তথ্য এবং কাঁচামালের প্রকৃত অবস্থান ও ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ার মতো অসংগতিও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৫২৫টি মেশিনারিজ আমদানিতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমে প্রাথমিক হিসাবে ১১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান। ২০১৪ সাল থেকে মোট রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ নির্ধারণ এবং পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এনবিআরের

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর। কর প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, করদাতা সেবার মানোন্নয়ন এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করে এই লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এবার রাজস্ব কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে ‘থ্রি-আর’ বা তিনটি নীতি গ্রহণ করেছে এনবিআর। এগুলো হলো—রিকভারি বা পুনরুদ্ধার, রেস্টোরেশন বা পুনর্বহাল এবং রিকনস্ট্রাকশন বা পুনর্গঠন।রিকভারি কৌশলের আওতায় রাজস্ব আদায়ে গড়ে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রেস্টোরেশনের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানো এবং ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আর রিকনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়িয়ে স্বেচ্ছায় কর পরিপালন নিশ্চিত করতে চায় এনবিআর।চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর অনুবিভাগে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি, ভ্যাট অনুবিভাগে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি এবং কাস্টমস অনুবিভাগে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।আড়ও পড়ুন,আয়কর রিটার্নে ৫ শতাংশ প্রণোদনা পেতে হাতে আর চারদিনআয়কর খাতে কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার, উৎসে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর পরিপালন জোরদার এবং করসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ খাতে নিয়মিত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর ফাঁকি থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি এবং বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ থেকে আরও কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের প্রক্ষেপণ রয়েছে।ভ্যাট খাতেও প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি এডিপি বাস্তবায়ন, তামাকজাত পণ্য, বকেয়া রাজস্ব আদায় এবং ভ্যাট নিবন্ধনের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অবৈধ সিগারেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নজরদারি এবং বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পরিকল্পনাও রয়েছে।অন্যদিকে কাস্টমস খাতে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বকেয়া রাজস্ব আদায়, গোয়েন্দা তৎপরতা, পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা, নিলাম, আমদানিপণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্য নির্ধারণ এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধের মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।এনবিআরের কর্মকর্তাদের আশা, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনে সমন্বিত পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এনবিআরের