শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
আরসিইপিতে বাংলাদেশের সদস্যপদ প্রক্রিয়া এগোল, গঠিত হচ্ছে বিশেষ কার্যদল

আরসিইপিতে বাংলাদেশের সদস্যপদ প্রক্রিয়া এগোল, গঠিত হচ্ছে বিশেষ কার্যদল

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য জোট আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব—আরসিইপিতে বাংলাদেশের সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। বাংলাদেশসহ চার আবেদনকারী অর্থনীতির সদস্যপদ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে একটি অ্যাডহক অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের অনুমোদন দিয়েছে জোটের সদস্যদেশগুলো।গত ২১ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে আরসিইপির যৌথ কমিটি বাংলাদেশ, চিলি, শ্রীলঙ্কা ও হংকংয়ের আবেদন নিয়ে বিশেষ কার্যদল গঠনের সুপারিশ করেছিল। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সেই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।আরসিইপিতে বর্তমানে ১৫টি অর্থনীতি রয়েছে। এর মধ্যে আসিয়ানের ১০টি দেশ—ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম; পাশাপাশি চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড রয়েছে। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি আরসিইপি কার্যকর হয়।আড়ও পড়ুন,আয়কর রিটার্নে ৫ শতাংশ প্রণোদনা পেতে হাতে আর চারদিনজোটটির সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন গঠিত কার্যদল আবেদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি কাজ এগিয়ে নেবে। অর্থাৎ, কার্যদল গঠনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সদস্যপদ নিশ্চিত হওয়ার অর্থ নয়; বরং এটি আনুষ্ঠানিক অ্যাকসেশন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ।বাংলাদেশের জন্য আরসিইপিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য গুরুত্ব মূলত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। জোটটির সদস্য হলে সদস্যদেশগুলোর বাজারে পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব, ই-কমার্স, প্রতিযোগিতা, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সুযোগ নিয়েও কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি হবে।আরসিইপির সদস্যদেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিসরও বড়। জোটটি বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৩০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। ২০২৪ সালে সদস্যদেশগুলোর পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।বাংলাদেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও আরসিইপি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আরসিইপিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের মোট আমদানির ৫৩ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং রপ্তানির ৭ দশমিক ৯২ শতাংশ সম্পর্কিত। ফলে সদস্যপদ পেলে এসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।বাংলাদেশ ২০২২ সাল থেকে আরসিইপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া অনুমোদিত হওয়ার পর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে। আড়ও পড়ুন,৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এনবিআরেরচলতি বছর চার আবেদনকারী অর্থনীতিকে নিয়ে অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের অনুমোদনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে গেল।তবে সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশের সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে। আরসিইপিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা, চুক্তির বিভিন্ন নিয়ম ও শর্ত পূরণের সক্ষমতা এবং সদস্যদেশগুলোর জন্য বাজারসুবিধার প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।বিশেষ করে কোন পণ্যে কতটা শুল্কসুবিধা দেওয়া হবে, কত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে এবং বাংলাদেশ নিজে সদস্যদেশগুলোর পণ্যের জন্য কী ধরনের বাজারসুবিধা দেবে—এসব বিষয় নিয়ে দর-কষাকষি করতে হবে।অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশে যে বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে, উত্তরণের পর তার কিছু অংশ কমে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের আওতায় নতুন বাজারসুবিধা তৈরি করা বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সম্ভাব্য সুবিধার পাশাপাশি সদস্যপদ বাংলাদেশের জন্য পারস্পরিক বাজার উন্মুক্ত করার চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে। ফলে রপ্তানি সুবিধা অর্জনের পাশাপাশি দেশীয় শিল্প, রাজস্ব, আমদানি প্রতিযোগিতা এবং বাজারসুরক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে দক্ষতার সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সদস্যরা চুক্তিটিকে উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক গভীর করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখন মূল নজর থাকবে নতুন অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম, কারিগরি মূল্যায়ন এবং পরবর্তী আলোচনার দিকে। এসব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করার পরই বাংলাদেশের সদস্যপদ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের পথ তৈরি হবে।