জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান এলডিপি প্রধানের
ক্ষমতাসীন সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান, বিচারব্যবস্থা ও প্রবাসীদের সমস্যাসহ সার্বিক জাতীয় পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অলি আহমেদ দাবি করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ উল্টো। নতুন বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ এবং কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ইতোমধ্যেই প্রায় ৮০ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। একইসঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ এখন রাতে বা রাস্তায় চলাচলে বিন্দুমাত্র নিরাপত্তা বোধ করছে না। দেশের বিচারব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আরও পড়ুন,ইশরাকের অস্ত্র হাতে নামার কারণ রাষ্ট্রের ব্যর্থতাব্যাংকিং খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার পাশাপাশি নির্দোষ মালিকদের ব্যাংক পরিচালনার সুযোগ দিয়ে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর আহ্বান জানান। এছাড়া বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূতদের দ্রুত হস্তক্ষেপ না থাকলে প্রবাসীরা দেশে ফিরে এলে অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সাথে ইউএনও ও ওসিদের সংসদ সদস্যদের পেছনে না ঘুরে দাপ্তরিক কাজ করার তাগিদ দেন তিনি। ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক সমঝোতার স্মৃতিচারণ করে অলি আহমেদ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সতর্ক করে বলেন, তাঁর চারপাশের ভুল পরামর্শদাতারা দল ও দেশের জন্য ক্ষতিকর। শেষভাগে তিনি দেশের বিরাজমান সংকট নিরসনে এবং জন দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ‘জুলাই সনদ’ ও সংস্কারসমূহ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।