উত্তর সিরিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক বিস্ফোরণ
উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পোর কাছে একটি সামরিক অস্ত্রাগারে শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর ওই এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।সরকারি বার্তা সংস্থা সানার বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার ভোরে আলেপ্পো শহরের দক্ষিণে আল-ইস এলাকার কাছে সিরীয় সেনাবাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটিতে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। এরপর সেখানে আরও কয়েক দফা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো পৌঁছে যায়। আলেপ্পোর সিভিল ডিফেন্সের প্রধান ফয়সাল মোহাম্মদ আলি জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে চারজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।আলেপ্পো থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিত্তো জানান, প্রথম বিস্ফোরণের পরও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ছুটে যেতে দেখা যায়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-ঘারিব স্থানীয় বাসিন্দাদের আপাতত ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। হাসপাতাল ও জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,গ্রিনল্যান্ডে পুরোনো সামরিক ঘাঁটি ফের চালু করবে যুক্তরাষ্ট্রএদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিস্ফোরণস্থলের দিকে যাওয়া কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে আলেপ্পোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কমান্ড।স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং পরে বাড়ির ছাদ থেকে দূরে বড় ধরনের আগুনের শিখা দেখতে পেয়েছেন।সিরিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্রাগারে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আজ-জোর প্রদেশের একটি সামরিক স্থাপনায় বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত হন।এর আগে চলতি মাসের শুরুতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে একটি অস্ত্রাগারে বিস্ফোরণে ১৪ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। একই এলাকায় গোলাবারুদবাহী একটি গাড়িতে বিস্ফোরণে আরও পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়া এখন এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পরবর্তী জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।