খাদ্যদ্রব্যের পর এবার টুথপেস্ট সাবান শ্যাম্পু তেল ও বিভিন্ন প্রসাধনীসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যে আমিষ ও নিরামিষ চিহ্ন বাধ্যতামূলক করেছে ভারত সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী পণ্যের মোড়কে বিশেষ রঙের ফোঁটা ব্যবহার করতে হবে। লাল বা বাদামি রঙের ফোঁটা থাকলে বোঝাবে ওই পণ্য তৈরিতে পশুর চর্বি কিংবা কোনো আমিষ উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। আর সবুজ রঙের ফোঁটা থাকলে সেটি পুরোপুরি নিরামিষ পণ্য হিসেবে চিহ্নিত হবে। ভারতের উপভোক্তা মন্ত্রণালয় লিগ্যাল মেট্রোলজি মোড়কজাত পণ্য নিয়ম ২০১১ সংশোধনের মাধ্যমে এই বিধান করেছে। সম্প্রতি সংশোধিত নিয়মের গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন বিধি অনুযায়ী পণ্যের মোড়কে এমন জায়গায় এই চিহ্ন রাখতে হবে যাতে ভোক্তার সহজেই নজরে পড়ে এবং কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিষয়টি বুঝতে পারেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নিয়ম পরিবর্তনের নির্দিষ্ট কারণ বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কিছু ভোক্তার অভিযোগ ছিল বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে প্রাণিজ উপাদান বা পশুর চর্বি ব্যবহার করা হলেও তা স্পষ্টভাবে জানানো হয় না। এতে নিরামিষভোজীরা অনেক সময় না জেনেই এসব পণ্য ব্যবহার করেন। আড়ও পড়ুন,প্রশিক্ষণ শেষে ফেরার পথে বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৬ এ নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও করা হয়। এর পর খাদ্যপণ্যের বাইরে অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও আমিষ ও নিরামিষের বিষয়টি স্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হলো। তবে ভারতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়া এবং নিরামিষভোজী হওয়া এক বিষয় নয়। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ হিন্দু। অন্যদিকে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায় প্রায় ৪৪ শতাংশ হিন্দু নিজেদের নিরামিষভোজী হিসেবে পরিচয় দেন। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু মাছ মাংস ও ডিমও খান। নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে ভোক্তারা শুধু খাবার নয় বরং দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য কেনার সময়ও মোড়কের রঙিন চিহ্ন দেখে জানতে পারবেন পণ্যটি আমিষ না নিরামিষ।
টুথপেস্ট সাবান শ্যাম্পুতেও এবার আমিষ নিরামিষের চিহ্ন
মতামত