শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

যুদ্ধের তিন বছর পরও গাজাবাসীর শেষ হয়নি বেঁচে থাকার সংগ্রাম


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

যুদ্ধের তিন বছর পরও গাজাবাসীর শেষ হয়নি বেঁচে থাকার সংগ্রাম
বেঁচে থাকার সংগ্রাম

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর গাজায় সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। তিন বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ফিলিস্তিনের গাজার চেহারা আমূল বদলে গেছে। উপত্যকার বহু এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঘরবাড়ি ও জনপদ নিশ্চিহ্ন হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামো ও জরুরি পরিষেবা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধে ৭৪ হাজার ২৪৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও গাজায় দুর্ভোগ পুরোপুরি শেষ হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ১ হাজার ৪৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তিন বছরের যুদ্ধে প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবন ওলট-পালট হয়েছে। বারবার বাস্তুচ্যুতি ও এলাকা ছাড়ার নির্দেশে পরিবার ও জনপদ ছিন্নভিন্ন হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজার ৯৪ শতাংশ মানুষের জরুরি আশ্রয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীর প্রয়োজন রয়েছে। প্রায় ৬৫ শতাংশ পরিবার তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে। পানির সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আগস্টের শুরুতে জরিপ করা ৯১ শতাংশ পরিবার মাঝারি থেকে গুরুতর পানি সংকটে ভুগছিল। গাজায় কার্যকর কোনো বিদ্যুৎ গ্রিড না থাকায় জরুরি পরিষেবা ও সাধারণ মানুষকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের সংকটও বাড়ছে। 

আরও পড়ুন,খলনায়ক থেকে জনপ্রিয় নায়ক যেভাবে জসীম হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি

যুদ্ধের ধাক্কায় গাজার অর্থনীতি প্রায় ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে গাজার ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বেকারত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ শতাংশে। ২০২৫ সালে গাজার মাথাপিছু জিডিপি কমে মাত্র ২১২ ডলারে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে যা ছিল ১ হাজার ২৫৩ ডলার। অর্থাৎ তিন বছরে তা প্রায় ৮৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে শিক্ষায়। ইউনিসেফের হিসাবে, গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। লাখ লাখ শিশু দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। অনেককে এখন তাঁবু ও অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। ফলে তিন বছরের যুদ্ধে শুধু গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোই ধ্বংস হয়নি, গভীর সংকটে পড়েছে মানুষের জীবনযাপন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও একটি পুরো প্রজন্মের শিক্ষাজীবন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


যুদ্ধের তিন বছর পরও গাজাবাসীর শেষ হয়নি বেঁচে থাকার সংগ্রাম

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর গাজায় সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। তিন বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ফিলিস্তিনের গাজার চেহারা আমূল বদলে গেছে। উপত্যকার বহু এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঘরবাড়ি ও জনপদ নিশ্চিহ্ন হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অবকাঠামো ও জরুরি পরিষেবা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধে ৭৪ হাজার ২৪৫ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও গাজায় দুর্ভোগ পুরোপুরি শেষ হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ১ হাজার ৪৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তিন বছরের যুদ্ধে প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবন ওলট-পালট হয়েছে। বারবার বাস্তুচ্যুতি ও এলাকা ছাড়ার নির্দেশে পরিবার ও জনপদ ছিন্নভিন্ন হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজার ৯৪ শতাংশ মানুষের জরুরি আশ্রয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীর প্রয়োজন রয়েছে। প্রায় ৬৫ শতাংশ পরিবার তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে। পানির সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আগস্টের শুরুতে জরিপ করা ৯১ শতাংশ পরিবার মাঝারি থেকে গুরুতর পানি সংকটে ভুগছিল। গাজায় কার্যকর কোনো বিদ্যুৎ গ্রিড না থাকায় জরুরি পরিষেবা ও সাধারণ মানুষকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের সংকটও বাড়ছে। 

আরও পড়ুন,খলনায়ক থেকে জনপ্রিয় নায়ক যেভাবে জসীম হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি

যুদ্ধের ধাক্কায় গাজার অর্থনীতি প্রায় ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে গাজার ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বেকারত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ শতাংশে। ২০২৫ সালে গাজার মাথাপিছু জিডিপি কমে মাত্র ২১২ ডলারে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে যা ছিল ১ হাজার ২৫৩ ডলার। অর্থাৎ তিন বছরে তা প্রায় ৮৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে শিক্ষায়। ইউনিসেফের হিসাবে, গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। লাখ লাখ শিশু দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। অনেককে এখন তাঁবু ও অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। ফলে তিন বছরের যুদ্ধে শুধু গাজার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোই ধ্বংস হয়নি, গভীর সংকটে পড়েছে মানুষের জীবনযাপন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও একটি পুরো প্রজন্মের শিক্ষাজীবন।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
যুদ্ধের তিন বছর পরও গাজাবাসীর শেষ হয়নি বেঁচে থাকার সংগ্রাম
0:00 0:00
1.0x