বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ক্রমান্বয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে শুরু করেছে এবং পরবর্তীতে এটি একটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত এই নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে অতি দ্রুত গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এরপর এটি ধীরে ধীরে গতিপথ পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী বুধবার, ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, সিস্টেমটি শেষ পর্যন্ত অতি প্রবল রূপ নিতে পারে এবং এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাতের সঠিক পরিমাণ এবং ঝড়ের চূড়ান্ত প্রভাব কেমন হবে,
আরও পড়ুন,নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান
তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। স্থলভাগে আঘাত হানার পর ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও এর অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসতে পারে। অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানলে দেশের সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ বাদে অন্যান্য প্রায় সব অঞ্চলেই বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে। উল্লেখ্য যে, চলতি মাসে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। এই শুষ্ক পরিস্থিতির পর সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী বুধবার থেকে পরবর্তী এক থেকে দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মতামত