বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
অপরাধ করলে দলীয় পরিচয়েও ছাড় নেই বলছে বিএনপি

অপরাধ করলে দলীয় পরিচয়েও ছাড় নেই বলছে বিএনপি

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের আগে বলেছিলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি নিজ দলের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আসার পর তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। দ্রুত পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।আড়ও পড়ুন,তিন কারা কর্মকর্তার সম্পদ বিবরণী চাইল দুদক বিএনপির নেতারা বলছেন, দলের নেতাকর্মী হলেও অপরাধের অভিযোগে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যায়ে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আইনগত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের ওপরই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ভর করবে। দলীয় এমপির বিরুদ্ধে পদত্যাগের নির্দেশের এই ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই সিদ্ধান্তের পর দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে বিএনপি কী ধরনের সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেয়।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

বিদ্যমান ও উদীয়মান আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী জাতীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা সংস্কার ও ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া আধুনিকায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে এই কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী।বক্তব্যে তিনি আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা জোরদার এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।আইনমন্ত্রী বাংলাদেশের চলমান বিচারিক সংস্কারের বিষয়ও তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় জাতীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।আড়ও পড়ুন,ডেঙ্গু জ্বরে যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেনতিনি বলেন, আবুধাবি ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধি সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকর ব্যবহার আরও জোরদার ও সম্প্রসারণ, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং মামলাজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।একই সঙ্গে সময়োপযোগী ও ন্যায়সংগত বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও কাজ করার কথা জানান তিনি।জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর বা ইউএনওডিসি পাঁচ বছর অন্তর এই আন্তর্জাতিক কংগ্রেসের আয়োজন করে। বিশ্বজুড়ে অপরাধ প্রতিরোধ, ফৌজদারি বিচার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কংগ্রেসে আলোচনা হচ্ছে।বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বক্তব্যে জাতীয় পর্যায়ের বিচারিক সংস্কারের পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে নতুন ইউনিট গঠনের ঘোষণা

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী সপ্তাহেই আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।শনিবার পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পুলিশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান নতুন এই ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বা অ্যাডিশনাল আইজিপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। পুলিশ সদর দপ্তরে এ ধরনের পদ না থাকলে প্রয়োজনে নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান তিনি।নতুন সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের কার্যক্রম শুধু পুলিশ সদর দপ্তরকেন্দ্রিক থাকবে না। মেট্রো ডিভিশন এবং জেলা পর্যায়েও এর শাখা থাকবে। পাশাপাশি থানা ও জেলা পর্যায়ে সাইবার অপরাধ তদন্ত ও বিশ্লেষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখা হবে।আড়ও পড়ুন,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান সদর দপ্তর ও বিভাগীয় পর্যায়ে বড় আকারের ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা হবে। ফলে সাইবার অপরাধের আলামত সংগ্রহ থেকে শুরু করে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ পর্যন্ত কাজ আরও সংগঠিতভাবে করার সুযোগ তৈরি হবে।তিনি বলেন সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে প্রকল্প প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব অপরাধের তদন্ত ও বিশ্লেষণ স্থানীয় পর্যায়েই সম্ভব সেগুলো থানা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর জটিল ও বড় ধরনের ঘটনা প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পাঠানো হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী আধুনিক অপরাধপ্রবণতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ। বিভিন্ন দেশে সাইবার অপরাধ ও স্ক্যামভিত্তিক অপরাধের ব্যাপকতা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন এই বাস্তবতায় বাংলাদেশেও সাইবার নিরাপত্তাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।পুলিশ সপ্তাহের ওই অনুষ্ঠানে ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে পিপিএম ও বিপিএম পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।নতুন এই ইউনিট বাস্তবায়িত হলে পুলিশের সাইবার অপরাধ তদন্তের সক্ষমতা কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত আরও সমন্বিত করার একটি কাঠামো তৈরি হবে।

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে নতুন ইউনিট গঠনের ঘোষণা