সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে আগামী সপ্তাহেই আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।শনিবার পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পুলিশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান নতুন এই ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক বা অ্যাডিশনাল আইজিপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। পুলিশ সদর দপ্তরে এ ধরনের পদ না থাকলে প্রয়োজনে নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে বলেও জানান তিনি।
নতুন সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের কার্যক্রম শুধু পুলিশ সদর দপ্তরকেন্দ্রিক থাকবে না। মেট্রো ডিভিশন এবং জেলা পর্যায়েও এর শাখা থাকবে। পাশাপাশি থানা ও জেলা পর্যায়ে সাইবার অপরাধ তদন্ত ও বিশ্লেষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখা হবে।
আড়ও পড়ুন,
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান সদর দপ্তর ও বিভাগীয় পর্যায়ে বড় আকারের ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা হবে। ফলে সাইবার অপরাধের আলামত সংগ্রহ থেকে শুরু করে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ পর্যন্ত কাজ আরও সংগঠিতভাবে করার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে প্রকল্প প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব অপরাধের তদন্ত ও বিশ্লেষণ স্থানীয় পর্যায়েই সম্ভব সেগুলো থানা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর জটিল ও বড় ধরনের ঘটনা প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পাঠানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী আধুনিক অপরাধপ্রবণতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ। বিভিন্ন দেশে সাইবার অপরাধ ও স্ক্যামভিত্তিক অপরাধের ব্যাপকতা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন এই বাস্তবতায় বাংলাদেশেও সাইবার নিরাপত্তাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
পুলিশ সপ্তাহের ওই অনুষ্ঠানে ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে পিপিএম ও বিপিএম পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এই ইউনিট বাস্তবায়িত হলে পুলিশের সাইবার অপরাধ তদন্তের সক্ষমতা কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত আরও সমন্বিত করার একটি কাঠামো তৈরি হবে।
মতামত