বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ইরানের হামলায় গোপন হুমকিতে ছিল আমিরাত

ইরানের হামলায় গোপন হুমকিতে ছিল আমিরাত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই। আকাশপথে হামলার পাশাপাশি ইরানি বাহিনীকে সহায়তাকারী গুপ্তচর ও ‘স্লিপার সেল’-এর মতো গোপন হুমকিও মোকাবিলা করতে হয়েছিল দেশটিকে। শুক্রবার ১৬ অক্টোবর গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দুবাইয়ে ইউএই করেসপন্ডেন্টস কাউন্সিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশটির ফেডারেল ন্যাশনাল কাউন্সিলের প্রতিরক্ষা, অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ডক্টর আলী রশিদ আল নুয়াইমি এসব নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা জানান। তিনি বলেন, হামলার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল সরকার। শপিং মল, রেস্তোরাঁ ও সমুদ্রসৈকত খোলা রেখে জনজীবন সচল রাখা হয়। আল নুয়াইমি জানান, হামলার সময় আবুধাবির গ্যালেরিয়া মলে তাঁর উপস্থিতি এক ইসরায়েলি পরিচিতজনকে বিস্মিত করেছিল। আরও পড়ুন,মোদি সরকারের সমালোচনা করে বিতর্কে সালমান রুশদিতাঁর মতে, সংঘাতের মধ্যেও এ ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে সামাজিক সহাবস্থান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ইতিবাচক দিক তুলে ধরে। তিনি আরও জানান, উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি পৃথকভাবে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতামূলক নেটওয়ার্ক ধ্বংসের কথা জানিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাভাবিক জনজীবন বজায় রাখা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজার মানুষের জন্য ১ কোটি খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করছে আমিরাত

গাজার ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের জন্য ১ কোটি বা ১ কোটি ১০ লাখের বেশি খাবারের প্যাকেট প্রস্তুতের উদ্যোগ নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুবাইয়ে বড় পরিসরের এক মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে এসব খাদ্য সহায়তা প্রস্তুত করা হচ্ছে।মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদের মানবিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ‘মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস’ এবং ‘অপারেশন গ্যালেন্ট নাইট ৩’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘আহমেদ বিন রশিদ হিউম্যানিটারিয়ান ব্রিজ’ নামে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।গাজার অসহায় পরিবার ও শিশুদের মধ্যে বিতরণের জন্য খাদ্য সহায়তার প্যাকেট তৈরির এই আয়োজনে শত শত স্বেচ্ছাসেবী, সাধারণ মানুষ এবং মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রেসিডেন্ট এবং এমিরেটস এয়ারলাইন অ্যান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।শেখ আহমেদ বিন সাঈদ বলেন, সারাজীবন মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদ দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি উদারতা, বিনয় এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে ছিলেন।এমবিআরজিআইয়ের মহাসচিব মোহাম্মদ আল গারগাবি বলেন, এই মানবিক আয়োজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের মানবিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ। দেশটির জাতীয় সূচনালগ্ন থেকেই শেখ আহমেদ বিন রশিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।এর আগে গাজার প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য শীতবস্ত্র সরবরাহের একটি বড় কর্মসূচিও শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আসন্ন শীতের সময়ে ফিলিস্তিনিদের উষ্ণতা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে ৫০ হাজার জ্যাকেট এবং ৫ হাজার উইন্টার কিটসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়েছেআড়ও পড়ুন,সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় সাদিয়া আয়মানের ক্ষোভআমিরাতের তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন গ্যালেন্ট নাইট ৩’-এর আওতায় গাজায় এ পর্যন্ত ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা পাঠানো হয়েছে। ৭৯৬টি বিমান, ২৫টি কার্গো জাহাজ এবং ১৪ হাজার ৩টি ট্রাকের মাধ্যমে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী সেখানে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি।এ ছাড়া গাজার খাদ্য ও স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গাজার স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালী করা এবং শিশু ও অন্যান্য রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহে ৩ কোটি ৭০ লাখ দিরহাম অনুদানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।মানবিক সংকটের মধ্যে গাজার সাধারণ মানুষের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

গাজার মানুষের জন্য ১ কোটি খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করছে আমিরাত