শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
জাতিসংঘে বক্তব্য দিতে নিউইয়র্কে পেজেশকিয়ান

জাতিসংঘে বক্তব্য দিতে নিউইয়র্কে পেজেশকিয়ান

তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে তাকে একটি বিমান থেকে নামতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কের একটি বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে থাকা কোনো দেশের নেতা হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে পেজেশকিয়ানের মার্কিন মাটিতে পৌঁছানো একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তার সফরকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা নিজেদের দেশের অবস্থান তুলে ধরছেন। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা থেকে শুরু করে যুদ্ধ সংঘাত অর্থনীতি এবং মানবিক সংকটসহ নানা বিষয় এবারের অধিবেশনে গুরুত্ব পাচ্ছে।পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের বিষয়টি তার বক্তব্যে কতটা গুরুত্ব পায় সেদিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।আড়ও পড়ুন,পৃথিবীর গড় তাপমাত্রায় নতুন রেকর্ডের শঙ্কাএদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টের নিউইয়র্ক সফর এমন সময়ে হচ্ছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান এবং অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।জাতিসংঘের মঞ্চে পেজেশকিয়ানের বক্তব্য তাই শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ বা আঞ্চলিক অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং চলমান সংঘাত নিয়ে তেহরানের বার্তাও উঠে আসতে পারে। এখন পেজেশকিয়ান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কী বার্তা দেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে ইরানের অবস্থান কীভাবে তুলে ধরেন সেদিকেই নজর রয়েছে।

নিউইয়র্কের দুই বিমানবন্দরে সাময়িক ফ্লাইট বন্ধ

ফাইবার অপটিক লাইন কেটে যাওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এর ফলে নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে।ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিউইয়র্কের নেওয়ার্ক বিমানবন্দরে ১৬৮টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৯৭টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। একই সময়ে ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দরে ৬৩টি ফ্লাইট বাতিল এবং ১৮৯টি ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে লাগার্ডিয়া ও ফিলাডেলফিয়া বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হয়। তবে নেওয়ার্ক ও জেএফকে বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়।কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী নিউ জার্সিতে অ্যামট্র্যাকের একটি নির্মাণ দল ভুলবশত ফাইবার লাইন কেটে ফেলায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়। আড়ও পড়ুন,চেয়ারের চেয়েও সরু গাড়ি, উঠল গিনেসের রেকর্ডেএর প্রভাবে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়।নতুন এয়ার ট্রাফিক প্রযুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এফএএ প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড জানান সোমবারের এই বিপর্যয়ের পেছনে দুটি সমস্যা কাজ করেছে। প্রথমে প্রাথমিক টেলিযোগাযোগ লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায় ব্যাকআপ ফাইবার লাইনটিও কেটে গেছে।বেডফোর্ড বলেন নির্মাণকাজের ভুলের কারণে ব্যাকআপ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক যোগাযোগ ব্যবস্থা দুপুরের মধ্যে সচল হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাকআপ ফাইবার লাইন পুরোপুরি মেরামত করতে প্রায় ১৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।এ ঘটনায় বিমানযাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নিউইয়র্কের দুই বিমানবন্দরে সাময়িক ফ্লাইট বন্ধ

জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আজ সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এটি জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম অংশগ্রহণ।সফরকালে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনেও যোগ দেবেন তিনি। একই দিন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে বৈশ্বিক বৈষম্য মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও ন্যায়সংগত উত্তরণ নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকটও থাকবে প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানাবেন তিনি।জলবায়ু নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্বের ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং দক্ষ ধাত্রী সেবা নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।আড়ও পড়ুন,লংমার্চের সময় বিদেশে জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্যজাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।সব মিলিয়ে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের বার্তা দেওয়াই প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন তারেক রহমান