সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিরোধী দলের জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নোটিশ ও বক্তব্য সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি সংসদে কথা ও নোটিশের গুরুত্ব না পাওয়ার কারণেই বিরোধী দলকে রাজপথে কর্মসূচিতে যেতে হচ্ছে। বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন জ্বালানি তেল সার বিদ্যুৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শিশু ধর্ষণ ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদে একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব নোটিশের সবগুলো আলোচনার জন্য নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিনি বলেন বিরোধী দল সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়। সরকারের কাছে দেওয়া ভালো পরামর্শ গ্রহণ করা না হলে জনগণের সমস্যাগুলো নিয়ে সংসদের পাশাপাশি জনগণের কাছে ফিরে যাওয়াই তাদের পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী বিরোধী দল সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা শুধু প্রতীকী প্রতিবাদ করার রাজনীতি করতে চায় না।আড়ও পড়ুন,ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শনাক্তজ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন তেলের দাম বাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দামের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি আশপাশের দেশগুলোর অর্থনীতির মতো বড় নয়। তাঁর মতে জ্বালানির দাম বাড়লে শুধু যানবাহন চলাচলের খরচ নয় পরিবহন ব্যয় এবং পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়ে। এর প্রভাব বাজারদরেও পড়তে পারে। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন নিয়েও বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন এসব বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ ছিল। তবে সে পথে না যাওয়ায় সরকার জনগণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন সমস্যা ও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সত্য ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সংসদের ভেতরে ও বাইরে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করার কথা জানিয়েছেন নোটিশদাতা।নোটিশে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত রিজার্ভ বা ব্যাকআপ ছাড়া অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ করা হলে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে বলে নোটিশে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুনের দাবি, অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ ও পণ্য সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। তাই স্বর্ণ, রৌপ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।নোটিশে মূল্যস্ফীতির বিষয়টিকে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে থাকা জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।আড়ও পড়ুন,বাংলাদেশে নতুন স্মার্টফোন আনল টেকনোনোটিশদাতার বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক চাপ মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।এ ছাড়া এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে। নোটিশদাতার যুক্তি, দৈনন্দিন লেনদেনে সাধারণ মানুষের জন্য উচ্চ মূল্যমানের এই নোটের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম হলেও বড় অঙ্কের নগদ অর্থ সংরক্ষণে এ ধরনের নোট ব্যবহার করা হতে পারে।তাঁর দাবি, বড় মূল্যমানের নোটের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে বিপুল নগদ অর্থ রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং এর ফলে ছায়া অর্থনীতির বিস্তার ঘটতে পারে।এ ক্ষেত্রে ভারতের দুই হাজার রুপির নোট প্রত্যাহারের উদাহরণও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক জানিয়েছিল, ওই নোট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ছিল ‘ক্লিন নোট পলিসি’র অংশ। প্রত্যাহারের ঘোষণা হলেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দুই হাজার রুপির নোট বৈধ মুদ্রা হিসেবে বহাল ছিল এবং জনগণকে ব্যাংকে জমা বা অন্য মূল্যমানের নোটে বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। ১৫ দিনের মধ্যে দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হাইকোর্টে রিট করার কথা জানিয়েছেন আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।