শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
সাত ইসলামী দলের ঐক্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি, ২২ অক্টোবর বৈঠকে সমাধানের চেষ্টা

সাত ইসলামী দলের ঐক্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি, ২২ অক্টোবর বৈঠকে সমাধানের চেষ্টা

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে সাত ইসলামী রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবিত ঐক্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ঐক্যের রূপরেখার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় আলোচনা থমকে আছে। বিশেষ করে ঐক্যের অংশ হওয়ার পর কোনো দল অন্য রাজনৈতিক জোটে থাকতে পারবে কি না কিংবা ভবিষ্যতে নতুন কোনো জোটে যোগ দিতে পারবে কি না—এ প্রশ্নটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐক্য প্রক্রিয়ায় রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় সাত দলের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ঐক্যের খসড়া রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে প্রতিটি দলের পাঁচজন করে মোট ৩৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। তবে খসড়া নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো প্রস্তাব চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পর রাজনৈতিক কৌশল ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে দলগুলোর স্বাধীনতা থাকবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।আড়ও পড়ুন,মোহাম্মদপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে হিজাব ও টুপি বিতরণ পাশাপাশি হেফাজতে ইসলাম নিজেকে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিলেও সাতটি রাজনৈতিক দলের ঐক্য প্রক্রিয়ায় উদ্যোগী হওয়ায় ভবিষ্যতে তাদের ভূমিকা কতটা থাকবে, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। মতপার্থক্য নিরসনে ২৪ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দলের তিনজন করে ২১ জন প্রতিনিধি এবং হেফাজতের তিনজন নেতা এই কমিটিতে থাকবেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানকে।আগামী ২২ অক্টোবর ঢাকার খিলগাঁওয়ের একটি মাদ্রাসায় লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে অন্য রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সম্পর্ক, হেফাজতের ভূমিকা, দলগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা এবং ঐক্যের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা হতে পারে।ঐক্যটি নির্বাচনী সমঝোতার জন্য, নাকি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হবে—এ বিষয়েও স্পষ্টতা চাওয়া হচ্ছে। সাত দলের কয়েকজন নেতা মনে করছেন, তাড়াহুড়ো করে ঐক্য গঠন না করে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর কাঠামো নিশ্চিত করা প্রয়োজন।বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার ঐক্য প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এমন ঐক্য চান না যা কিছুদিন পর আবার ভেঙে যায়। অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বৈঠকেই সাত দলের ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলেনস্কি

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় বিকেলে কোনো একসময় এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে দুই নেতাই বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সোমবার এএফপিকে বৈঠকের তথ্য জানিয়েছে।ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিচুক্তির জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই প্রচেষ্টা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধের দিকেও বেড়েছে।এমন পরিস্থিতিতে সাড়ে চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি শান্তি আলোচনা আবারও শুরু করার জন্য ওয়াশিংটনের চাপের মধ্যেই ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।বৈঠকের আগে সোমবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, রাশিয়া তাদের জ্বালানি তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। আড়ও পড়ুন,সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে প্রস্তুত ইরানরাশিয়ার বেশ কয়েকটি ডিজেল শোধনাগার ধ্বংস হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কিছু প্রস্তাব আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তাঁর মতে উত্তেজনা কমানোর জন্য শক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি খাত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং খাদ্য রপ্তানি খাতে রাশিয়ার হামলা বন্ধ করতে হবে। এর বিনিময়ে ইউক্রেনও হামলা বন্ধ করতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না করার বিষয়ে রাজি হয়েছে। তবে এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার খবর এসেছে।ফলে নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ এবং ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার কাঠামো নিয়ে কী আলোচনা হয় সেটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলেনস্কি