শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যাতে নিত্যপণ্যের বাজারে বড় আকারে না পড়ে, সে জন্য সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি বাজারে কঠোর নজরদারি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানে চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হলে বাজারে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলে তিনি মনে করেন।তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে না পারেন, সেজন্য বাজারে কঠোর মনিটরিং করা হবে।সম্প্রতি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সরকারের বৈঠকের কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সেখানে পণ্য আমদানি পরিবহন এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।মন্ত্রী বলেন, এসব অসংগতি দূর করতে সরকার কাজ করছে। আড়ও পড়ুন,জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করলেন তারেক রহমানএকই সঙ্গে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওিনি সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন আমদানি করা পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলো স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরয়া হচ্ছে।এদিকে গ্যাস সরবরাহের সংকটও বর্তমানে অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে চিনি সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন আমদানি করা পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলো স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে বলে জানান মন্ত্রী।তাঁর আশা, উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে না।এর আগে লাক্কাতুরা চা বাগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন চা বাগানের ১ হাজার ৯৮০ শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে চা বাগানের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া চা বাগানের রাস্তা সংস্কার অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা এবং স্কুল স্থাপনের মতো বিষয়েও সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।এখন জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের প্রভাব পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের বাজারে কতটা পড়ে এবং সরকারের নজরদারি তা কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে সেটিই দেখার বিষয়।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে: নাহিদ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ দাবি জানান তিনি।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার খেসারত দেশের ১৮ কোটি মানুষকে দিতে হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও সৃজনশীল বিকল্প খোঁজার পরিবর্তে সরাসরি জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তার দাবি, ক্ষমতায় আসার পর কয়েক মাসের মধ্যেই তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয়সহ সরকারের বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরার কথা উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।তিনি প্রশ্ন তোলেন, আড়ও পড়ুন,জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভজ্বালানি তেল আমদানিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের কর ও শুল্ক আদায় করছে। বর্তমান সংকটে নাগরিকদের ওপর চাপ কমাতে অন্তত সাময়িকভাবে এসব কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলো না কেন।নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করতে চায়। অথচ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কেন এত জরুরি হয়ে পড়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, জনগণের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানোর পরিবর্তে রাষ্ট্রের অন্যান্য ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ ইসলাম বলেন, অবিলম্বে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের ওপর নতুন বোঝা না চাপিয়ে বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে: নাহিদ