শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল বাড়বে কি মূল্যস্ফীতির চাপ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল বাড়বে কি মূল্যস্ফীতির চাপ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু গাড়ির ভাড়া কিংবা যাতায়াত খরচই বাড়ে না। পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ধাপেই বাড়ে খরচ। যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।আবারও ডিজেল পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো পেট্রল ও অকটেনের দাম ছাড়িয়েছে দেড়শ টাকা। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষ।২০২২ সালের আগস্টের পর জ্বালানি তেলের দাম একবারে এতটা বাড়েনি।ওই বছরের ৬ আগস্ট ডিজেল কেরোসিন পেট্রল ও অকটেনের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। পরদিন থেকেই কার্যকর হয় নতুন দাম।তখন ডিজেলের দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১১৪ টাকা। পেট্রলের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১৩০ টাকা। আর অকটেনের দাম ৮৯ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১৩৫ টাকা।এর পরের মাসেই মূল্যস্ফীতির বড় ধরনের প্রভাব দেখা যায়।২০২২ সালের জুলাইয়ে যেখানে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ সেখানে আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে।জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় পণ্য পরিবহন ও যাত্রী পরিবহনের খরচ। এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও।এরপর বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটসহ নানা কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও দীর্ঘ হয়েছে।২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি উঠেছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।এবার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সামনে কী হবে মূল্যস্ফীতির?অর্থনীতিবিদদের মতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে পরিবহন ব্যয়ে। আড়ও পড়ুন,https://crimeexpress.net/post/6129/এরপর বাড়তে পারে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের খরচ। আর শেষ পর্যন্ত এর চাপ গিয়ে পড়তে পারে ভোক্তার ওপর।বিশেষ করে যাঁদের আয় নির্দিষ্ট তাঁদের ওপর এই চাপ বেশি অনুভূত হতে পারে।জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে। তবে এই সুযোগে যেন অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা তৈরি না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে।ভয়েসওভার:জাহিদ হোসেনের মতে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে দেশে দাম না বাড়ালে সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বাড়ত।তবে তাঁর মতে মাসের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের যে নীতি রয়েছে এবার তা অনুসরণ করা হয়নি। মাসের শেষভাগে হঠাৎ দাম বাড়ানো হয়েছে।অন্যদিকে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়লেও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কার্যকর হলে বাজারে অর্থের প্রবাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঋণের সুদ কমায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়লেও মূল্যস্ফীতির ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যবৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—শুধু জ্বালানি নয় আগামী দিনে আর কোন কোন পণ্যের দাম বাড়বে এবং সেই বাড়তি খরচ সামলাবেন কীভাবে?অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।