বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
২০২৭ সালজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপের শঙ্কা

২০২৭ সালজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপের শঙ্কা

যুদ্ধ, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং এল নিনোর প্রভাবে খরার আশঙ্কা সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে এই চাপ তীব্র হতে পারে। এমনকি এর প্রভাব পুরো ২০২৭ সালজুড়েও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার ৬৩ বছর বয়সী পার্কিংকর্মী মুহাম্মদ ইয়াসিনের জীবনে এর প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট। আগে চাল, টেম্পে ও টোফু কিনতে যেখানে তাঁর খরচ হতো ৭ থেকে ৮ হাজার রুপিয়া, এখন একই খাবারের জন্য দিতে হচ্ছে ১৫ হাজার রুপিয়া। চার সন্তানের বাবা ইয়াসিনের সাপ্তাহিক আয় ২ লাখ থেকে ৩ লাখ রুপিয়া। ফলে সংসারের খরচ সামলাতে তাঁকে খাবারের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে গম পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। লোহিত সাগরে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জাহাজকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলতে হচ্ছে। আরও পড়ুন,আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দামপাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি ও সার সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর সঙ্গে এল নিনোর প্রভাবে খরার আশঙ্কা যুক্ত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানিয়েছেন, এসব কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়েছে। সংস্থাটির খাদ্যমূল্য সূচক গত সেপ্টেম্বরে ১৩৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এশিয়ার প্রধান চাল রপ্তানিকারক দেশগুলোতে চালের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ায় ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রান্নার তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। যুদ্ধের ঝুঁকি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নৌপথে পণ্য পরিবহনের ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর খাদ্য সংগ্রহের খরচ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসে বিভিন্ন দেশ আবার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে খাদ্যশস্য আমদানি বাড়ালে চাহিদার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। সয়াবিন ও ভুট্টার মজুত আপাতত পর্যাপ্ত থাকলেও ভবিষ্যৎ সরবরাহ নির্ভর করবে প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর ফলনের ওপর। সব মিলিয়ে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা আগামী দিনগুলোতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেশের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক সভা চলাকালে মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ওই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াতে পারে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে। সেই হিসাবে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।আরও পড়ুন,দেশের বাজারে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমল সোনার দাম, কমেছে রুপাওআইএমএফের পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার বর্তমান পর্যায়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবৃদ্ধি কমে গেলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির অক্টোবর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে বলা হয়েছে, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির সমস্যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে স্বর্ণে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের প্রভাবে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। তবে দিনের শুরুতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল মূল্যবান এই ধাতুর দাম। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার ১৩ সেন্টে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে দাম ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৯ ডলার ৭০ সেন্টে নেমে আসে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে স্বর্ণের বাজারে তার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।আরও পড়ুন,সারা দেশে কয়েক লাখ অব্যবহৃত সিলিন্ডার, বাজারে ফেরানোর দাবি ব্যবসায়ীদেরএতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং প্রকৃত সুদের হারের চাপ কমতে পারে। তবে স্বর্ণের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমে আসা। এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ডলার শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় স্বর্ণের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ডলারের দর বাড়লে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেন করা ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের দিকে। বুধবার দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই এবং বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক বা পিপিআই ও খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। এসব তথ্য থেকে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে স্বর্ণে সতর্ক বিনিয়োগকারীরা

সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে

দেশের মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে। আগস্ট মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। মূলত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণেই সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে বিবিএসের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও কমেছে মজুরি বৃদ্ধির হার। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় আয় বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। বুধবার ৭ অক্টোবর সেপ্টেম্বর মাসের ভোক্তা মূল্য সূচক বা সিপিআই এবং মজুরি হার সূচকের তথ্য প্রকাশ করে বিবিএস। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে। আগস্টে যা ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে গ্রামে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশে, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। আরও পড়ুন,জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নে স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চিঠিগ্রামে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৭ দশমিক ০১ শতাংশ থেকে বেড়ে সেপ্টেম্বরে হয়েছে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে নেমেছে। আগস্টে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। শহর এলাকাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে শহরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে। আগস্টে যা ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। শহরে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে। বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। খাতভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। সারা দেশের ৬৪টি জেলার ১৪৩টি হাট-বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল বাড়বে কি মূল্যস্ফীতির চাপ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু গাড়ির ভাড়া কিংবা যাতায়াত খরচই বাড়ে না। পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ধাপেই বাড়ে খরচ। যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।আবারও ডিজেল পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো পেট্রল ও অকটেনের দাম ছাড়িয়েছে দেড়শ টাকা। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষ।২০২২ সালের আগস্টের পর জ্বালানি তেলের দাম একবারে এতটা বাড়েনি।ওই বছরের ৬ আগস্ট ডিজেল কেরোসিন পেট্রল ও অকটেনের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। পরদিন থেকেই কার্যকর হয় নতুন দাম।তখন ডিজেলের দাম ৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১১৪ টাকা। পেট্রলের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১৩০ টাকা। আর অকটেনের দাম ৮৯ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১৩৫ টাকা।এর পরের মাসেই মূল্যস্ফীতির বড় ধরনের প্রভাব দেখা যায়।২০২২ সালের জুলাইয়ে যেখানে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ সেখানে আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে।জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় পণ্য পরিবহন ও যাত্রী পরিবহনের খরচ। এর প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও।এরপর বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকটসহ নানা কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও দীর্ঘ হয়েছে।২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি উঠেছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।এবার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সামনে কী হবে মূল্যস্ফীতির?অর্থনীতিবিদদের মতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে পরিবহন ব্যয়ে। আড়ও পড়ুন,https://crimeexpress.net/post/6129/এরপর বাড়তে পারে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের খরচ। আর শেষ পর্যন্ত এর চাপ গিয়ে পড়তে পারে ভোক্তার ওপর।বিশেষ করে যাঁদের আয় নির্দিষ্ট তাঁদের ওপর এই চাপ বেশি অনুভূত হতে পারে।জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে। তবে এই সুযোগে যেন অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা তৈরি না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে।ভয়েসওভার:জাহিদ হোসেনের মতে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে দেশে দাম না বাড়ালে সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বাড়ত।তবে তাঁর মতে মাসের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের যে নীতি রয়েছে এবার তা অনুসরণ করা হয়নি। মাসের শেষভাগে হঠাৎ দাম বাড়ানো হয়েছে।অন্যদিকে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়লেও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কার্যকর হলে বাজারে অর্থের প্রবাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঋণের সুদ কমায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়লেও মূল্যস্ফীতির ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যবৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—শুধু জ্বালানি নয় আগামী দিনে আর কোন কোন পণ্যের দাম বাড়বে এবং সেই বাড়তি খরচ সামলাবেন কীভাবে?অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল বাড়বে কি মূল্যস্ফীতির চাপ