বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
যৌন প্রস্তাবের পর সিনেমা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নীতি টেলর

যৌন প্রস্তাবের পর সিনেমা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নীতি টেলর

সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব পেয়েছিলেন অভিনেত্রী নীতি টেলর। তাঁর দাবি, নিজের প্রথম তেলেগু সিনেমার পরিচালকের কাছ থেকেই এমন প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। আকস্মিক এই ঘটনায় হতবাক হয়ে ফোন কেটে দেন অভিনেত্রী। পরে পরিচালকের নম্বর ব্লক করে মাকে ফোন দিয়ে পুরো ঘটনা জানান। সম্প্রতি হাউটারফ্লাইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের এই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন নীতি টেলর। হিন্দি টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ক্যায়সি ইয়ে ইয়ারিয়া’ দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ঘটনাটি তাঁর অভিনয়জীবন নিয়ে ভাবনাতেও বড় প্রভাব ফেলেছিল। নীতি জানান, প্রথম সিনেমায় কাজ শেষ হওয়ার পর পরিচালক তাঁকে আরেকটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়ে ফোন করেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে পরিচালক তাঁকে যৌন সম্পর্কের শর্ত দেন বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। আরোও পড়ুন,‘দৃশ্যম’-এর সঙ্গে তুলনা, নতুন মালয়ালম থ্রিলারে মুগ্ধ দর্শকঘটনাটি স্মরণ করে নীতি বলেন, নতুন সিনেমায় কাজ করতে হলে পরিচালকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে—এমন কথা শুনে তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। শেষ পর্যন্ত ফোন কেটে দিয়ে পরিচালকের নম্বর ব্লক করেন। এরপর মাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পরিচালককে এর আগেও অন্য নারীদের সঙ্গে দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের সঙ্গেও এমন আচরণ করা হতে পারে, তা কল্পনা করেননি। ঘটনার পর এতটাই হতবাক হয়ে পড়েছিলেন যে, একপর্যায়ে আর কোনো সিনেমায় অভিনয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সাক্ষাৎকারে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের নাম প্রকাশ করেননি নীতি। ফলে তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের কোনো প্রতিক্রিয়াও এখানে উল্লেখ করা হয়নি। ২০১২ সালে ‘মেম বয়সুকু ভাচাম’ সিনেমার মাধ্যমে তেলেগু চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নীতির। এরপর ‘পেল্লি পুস্তাকাম’ ও ‘লাভ ডটকম’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। পরে আর তেলেগু চলচ্চিত্রে দেখা যায়নি তাঁকে।অন্যদিকে হিন্দি টেলিভিশনে ‘ক্যায়সি ইয়ে ইয়ারিয়া’ ছাড়াও ‘বড়ে আচ্ছে লাগতে হ্যায় ২’-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন নীতি। সম্প্রতি রিয়েলিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’-এ অংশ নিয়েও আলোচনায় আসেন তিনি।নীতির এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা বিনোদনজগতে কাজের সুযোগের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগকে আবারও সামনে এনেছে।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সরব ফ্লোরেন্স পিউ, প্রশ্ন তুললেন নীরবতা নিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী ফ্লোরেন্স পিউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনায় শুধু নারীরা নয়, পুরুষদেরও আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর করা মামলার সূত্রে অভিযোগটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি অনুষ্ঠানে সাতজন পুরুষ তাঁকে ধর্ষণ ও মাদক প্রয়োগ করেন। ওই সময় তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর। ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে পরিচিত ওই নারী বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ভ্রাতৃসংঘের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।অভিযোগকারীর আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তের পর অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়। অন্যদের বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগপত্রের সূত্রে জানা গেছে। ইনস্টাগ্রামে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফ্লোরেন্স পিউ বলেন, ঘটনাটি তাঁকে অস্বস্তি, উদ্বেগ ও গভীরভাবে বিচলিত করেছে। একই ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে এবং এখনো ঘটছে—এ বিষয়টিই তাঁকে বেশি ভাবিয়েছে বলে জানান তিনি।আড়ও পড়ুন,জোভান–তৌসিফকে নিয়ে ভক্তদের ভার্চ্যুয়াল যুদ্ধ, বন্ধুত্বের বার্তা দিলেন জোভানপিউ বিশেষভাবে পুরুষদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরব না থেকে পুরুষদেরও প্রতিবাদ ও সচেতনতার ক্ষেত্রে সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। তিনি জানতে চান, এমন গুরুতর ঘটনায় অনেকেই কেন নীরব থাকেন এবং কোনো ঘটনা সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা থাকলে তা ঠেকাতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু ক্ষমা চাওয়া বা লিখিত বক্তব্য যথেষ্ট নয়; জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্তদের ভবিষ্যৎ রক্ষার বিষয়টি ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নও তুলেছেন পিউ। একই সঙ্গে অভিযোগকারীর পাশে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। পিউ আরও বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে নারী-পুরুষের প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। নারীরা যেন নিরাপদে নিজেদের জীবন পরিচালনা করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে পুরুষদেরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। পরে একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পিউ দাবি করেন, তাঁর মূল পোস্টটি কিছু সময় অনেকের কাছে দৃশ্যমান হচ্ছিল না। যৌন নিপীড়ন নিয়ে কথা বলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পোস্ট সীমিত করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। পরে পোস্টটি আবার দৃশ্যমান হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সরব ফ্লোরেন্স পিউ, প্রশ্ন তুললেন নীরবতা নিয়ে