বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
আট মাসেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বাড়ল ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ

আট মাসেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বাড়ল ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ

সংস্কার উদ্যোগ এবং বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে এই লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছে গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করেছে। বাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক সূচক নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ এর মধ্যে অন্যতম। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানিয়েছেন, বিদেশি লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে কোনো একক উদ্যোগ কাজ করছে না। বাজার উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ, এমএসসিআইসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআইটিএ-সংক্রান্ত বিধি সহজ করা এবং টি প্লাস ওয়ান সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।আরও পড়ুন,রাশিয়া থেকে রওনা ইউরেনিয়ামবাহী বিমান রূপপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্নসম্প্রতি বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য এনআইটিএ ব্যবস্থার একটি জটিলতাও সহজ করা হয়েছে। আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদাভাবে এনআইটিএ হিসাব করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদা হিসাব না করে বাংলাদেশ থেকে অর্থ প্রত্যাবাসনের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব সম্পন্ন করা যাবে। এতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএসইর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিদেশি লেনদেনে ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারিতে লেনদেন ছিল ৩৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। মার্চে কমে ২৭২ কোটি ৩ লাখ এবং এপ্রিলে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকায় নেমে আসে। তবে মে মাসে বিদেশি লেনদেনে বড় উত্থান ঘটে। ওই মাসে লেনদেন হয়েছে ৮৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জুনে ৫৪০ কোটি ১৬ লাখ এবং জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়। আগস্টে কিছুটা কমে তা দাঁড়ায় ৩১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে ২০২৫ সালের পুরো বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৯২০ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ২১ টাকা। ফলে চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

দুই বাজারেই লেনদেন বেড়েছে কমেছে সূচক

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের দুই পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও সূচকে পতন হয়েছে। দিনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা লেনদেনের আগ্রহ দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমায় বাজারের প্রধান সূচকগুলো নিম্নমুখী হয়েছে।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।সূচকের পতনের পাশাপাশি বাজারে লেনদেনের পরিমাণ অবশ্য বেড়েছে। সোমবার ডিএসইতে ৭৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৭৪৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৪১ কোটি টাকা।এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে।আড়ও পড়ুন,জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল বাড়বে কি মূল্যস্ফীতির চাপএর মধ্যে ১০০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৫৪টির দাম কমেছে এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ বাজারে দরপতনের শিকার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল দর বাড়া প্রতিষ্ঠানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের পতন হয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৪ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮২২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।সোমবার সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৭টির শেয়ারদর বেড়েছে। ৯০টির দর কমেছে এবং ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর অপরিবর্তিত ছিল।তবে সিএসইতেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। দিন শেষে সেখানে ২১ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১০ কোটি ৯ লাখ টাকা। ফলে একদিনের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা।সার্বিকভাবে সোমবারের বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও বিক্রির চাপ ছিল তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ডিএসইতে দর কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দর বাড়া প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় এর প্রভাব সূচকে পড়েছে।

দুই বাজারেই লেনদেন বেড়েছে কমেছে সূচক