বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
যন্তর মন্তরে নারী সাংবাদিকদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

যন্তর মন্তরে নারী সাংবাদিকদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন তিন নারী সাংবাদিক। শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। অভিযোগকারী এক সাংবাদিক জানান, পুলিশ যখন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছিল, তখন সেই দৃশ্য ধারণ করার সময় পুলিশের এক সহকারী কমিশনার বা এসিপি তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। ঘটনার পর তিনি ও অন্য সাংবাদিকেরা থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করেন। তবে তাঁদের অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ওই সাংবাদিক। পরে দিল্লি পুলিশ জানায়, সাংবাদিকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে অভিযোগগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে স্থানান্তর করা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশের এমন আচরণের অভিযোগে স্তম্ভিত ও হতাশা প্রকাশ করেছে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। সংস্থাটি বলেছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাংবাদিকদের ভয়ভীতি ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের সময় গণমাধ্যমকর্মীরা যেন হামলা বা হুমকির মুখে না পড়েন, আরও পড়ুন,বিলাসভ্রমণের সংজ্ঞা বদলেছে এখন প্রাধান্য পাচ্ছে ব্যক্তিগত পছন্দতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এদিকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে নারী সাংবাদিক ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে জবাব দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। তাই নারী সাংবাদিকের অভিযোগ নথিভুক্ত না করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেই জবাব দিতে হবে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালে শত শত মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নারী আন্দোলনকারীদের সঙ্গেও অসদাচরণ, সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে সরকার একজন নারীর অভিযোগ নথিভুক্ত করতেও ভয় পায়, তারা আসলে কাকে রক্ষা করছে। একই সঙ্গে অমিত শাহর কাছে এ ঘটনার জবাব দাবি করেন তিনি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে।

সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের সমস্যা কমবে কাদের গনি

সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলাই সাংবাদিকতার মূল মন্ত্র। সংবাদপত্র দেশের জনগণ ছাড়া কারও কাছে দায়বদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিক আড্ডায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশি সাংবাদিক এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।কাদের গনি চৌধুরী বলেন সাংবাদিকতার পথ কখনো সহজ বা মসৃণ ছিল না। দাসত্বের সাংবাদিকতা মানুষ গ্রহণ করে না। তার ভাষ্য গত ১৭ বছরে অনেক সাংবাদিককে দাসত্বের সাংবাদিকতা করতে দেখা গেছে এবং এর কারণে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।তিনি বলেন বর্তমানে গণমাধ্যমে যে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে তা অব্যাহত থাকলে সাংবাদিকরা আরও বেশি সত্য তুলে ধরতে পারবেন। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। যা ইচ্ছা তা লিখলেই সাংবাদিকতা হয় না এবং মুখে যা আসে তা বলাই বাকস্বাধীনতা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আড়ও পড়ুন,পাসপোর্ট হারালে অনলাইনে রিপোর্টের পাশাপাশি করতে হবে জিডিগণমাধ্যমের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার প্রসঙ্গে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবর্তে ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়েই অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেও মানুষকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এসব বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন অপসাংবাদিকতা ও হয়রানি রোধে আইন প্রয়োগ করতে হবে। একইসঙ্গে আইন যেন অপব্যবহার না হয় সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।তিনি ‘নো ওয়েজবোর্ড নো মিডিয়া’ নীতিমালা কার্যকরের দাবি জানান। তার মতে ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেক ভূঁইফোড় গণমাধ্যম গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও ওয়েজবোর্ড বাধ্যতামূলক করা হলে অপসাংবাদিকতা কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবিও জানান বিএফইউজে মহাসচিব। তিনি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি তুলে বলেন কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তা এখনো যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি।সাংবাদিক সমাজের বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। কাদের গনি চৌধুরী বলেন সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনের সুযোগ নিয়ে সরকার ও মালিকপক্ষ সুবিধা নেয়। সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।

সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের সমস্যা কমবে কাদের গনি