রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

জুলাই অভ্যুত্থান: ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে শুনানি


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

জুলাই অভ্যুত্থান: ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে শুনানি
জুলাই অভ্যুত্থান ৩ সাংবাদিক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও মানবতাবিরোধী অপরাধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত তিন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। অভিযুক্ত তিন সাংবাদিক হলেন—জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা। নির্ধারিত দিনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অভিযুক্তদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল এই তিন সাংবাদিককে আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করে দেন। 

আরও পড়ুন,নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান

প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্যমতে, মামলার মূল পটভূমি ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলন। অভিযোগ করা হয়েছে, উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন ও বক্তব্যের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং সাধারণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র উসকানি সৃষ্টি করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যা দেশজুড়ে আন্দোলনকে আরও তীব্র ও সংঘাতময় করে তোলে। রাষ্ট্রপক্ষ ও প্রসিকিউশন দাবি করছে যে, সাংবাদিকদের এই রূপ উসকানিমূলক আচরণ ও প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। ফলে এ ধরনের অপরাধের পেছনে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কতটুকু সংশ্রব ছিল, তা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিচারিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধে প্ররোচনার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

leftanent lieutenant

বিষয় : জুলাই সাংবাদিক ট্রাইব্যুনাল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


জুলাই অভ্যুত্থান: ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে শুনানি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও মানবতাবিরোধী অপরাধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত তিন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। অভিযুক্ত তিন সাংবাদিক হলেন—জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা। নির্ধারিত দিনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অভিযুক্তদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল এই তিন সাংবাদিককে আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করে দেন। 

আরও পড়ুন,নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান

প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্যমতে, মামলার মূল পটভূমি ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলন। অভিযোগ করা হয়েছে, উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন ও বক্তব্যের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং সাধারণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র উসকানি সৃষ্টি করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যা দেশজুড়ে আন্দোলনকে আরও তীব্র ও সংঘাতময় করে তোলে। রাষ্ট্রপক্ষ ও প্রসিকিউশন দাবি করছে যে, সাংবাদিকদের এই রূপ উসকানিমূলক আচরণ ও প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। ফলে এ ধরনের অপরাধের পেছনে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কতটুকু সংশ্রব ছিল, তা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিচারিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধে প্ররোচনার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

leftanent lieutenant


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
জুলাই অভ্যুত্থান: ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে শুনানি
0:00 0:00
1.0x