গাজী নজরুল ইসলামকে গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে দলটির পক্ষ থেকে তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।এর মধ্যেই গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় মরিয়মের বাবার করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংস্তারের পর গাজী নজরুল বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।এই পরিস্থিতিতে তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হয় না।
আড়ও পড়ুন,বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ঠেকাতে কঠোর নজরদারি
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হয়।অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্য নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর না পেরোলে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হন।স্পিকার জানিয়েছেন, গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয় তা দেখার পর নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে। এরপর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কোনো বিরোধ দেখা দিলে সংবিধান অনুযায়ী সেটি নির্বাচন কমিশনের কাছে নিষ্পত্তির জন্য যেতে পারে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।অর্থাৎ বর্তমানে শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
মতামত