দেশের মানুষ যখন নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে তখন রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিট সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।জামায়াত আমির বলেন পুরো সমাজ যখন সংকটের মধ্যে রয়েছে তখন সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। সরকারকে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে জামায়াত স্পষ্টভাবে বিরোধিতা করবে বলেও জানান।শফিকুর রহমান বলেন সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রয়োজনে দায়িত্ব নিয়েছেন বেতনের বিনিময়ে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য নয়। দেশের ১৮ কোটি মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তখন সবার সঙ্গে সুযোগ-সুবিধা ভাগ করে নিতে তাদের আপত্তি থাকবে না।তিনি জানান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে জামায়াতে ইসলামী সরকারি প্লট না নেওয়া এবং শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছিল। পরবর্তীতে সংসদেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।আড়ও পড়ুন,জামায়াতের ৩৪ এমপি ১৭ দিনের শিক্ষা সফরেএ সময় সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে নোটিশ দেওয়ার পরও সেগুলো আলোচনায় না আসার অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। জ্বালানি সংকট সার বিদ্যুৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শিশু ধর্ষণ ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে তারা নোটিশ দিয়েছেন বলেও জানান।সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন এক লিটার জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়লে এর প্রভাব শুধু যানবাহনের চালকের ওপর পড়ে না। পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও বাজারদরেও এর প্রভাব পড়ে।সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন দেশের স্বার্থে গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরতে হবে। কোনো বক্তব্যের অংশবিশেষ প্রচার করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা উচিত নয় বলেও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।তিনি আরও বলেন রাষ্ট্রের সংসদ নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্তম্ভ। তবে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত শক্তিশালী। গণমাধ্যম সঠিকভাবে কাজ করলে রাষ্ট্রের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হয় বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য বর্তমানে চার দেশে ১৭ দিনের শিক্ষা সফরে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫ থেকে ২৬ জন সংসদ সদস্যের সঙ্গে স্ত্রীও রয়েছেন। এছাড়া দলের কয়েকজন নেতা পরিবারের সদস্য এবং একজন লেখকও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।জামায়াতের পক্ষ থেকে এই সফরকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন গত ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় অনেক নেতার সংসদীয় কার্যক্রম ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতায় ঘাটতি রয়েছে। তাই দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বিদেশে নিয়ে বিভিন্ন দেশের সংসদ ব্যবস্থা নেতৃত্ব রাষ্ট্র পরিচালনা শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আড়ও পড়ুন,পলাতকরা দেশ অশান্তের চেষ্টা করছে দাবি রিজভীরগত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর দুই দফায় সফরকারী দলের সদস্যরা মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সেখানে তিন দিন অবস্থানের পর ১৭ সেপ্টেম্বর তারা সিঙ্গাপুরে যান। সিঙ্গাপুরে নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন তারা এবং একটি সিম্পোজিয়ামেও অংশ নেন। সেখানে সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন ও বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর তারা ফিলিপাইনে পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলামকে গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে দলটির পক্ষ থেকে তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।এর মধ্যেই গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় মরিয়মের বাবার করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংস্তারের পর গাজী নজরুল বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।এই পরিস্থিতিতে তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দল থেকে বহিষ্কার করলেই সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হয় না। আড়ও পড়ুন,বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ঠেকাতে কঠোর নজরদারিবাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিজে দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হয়।অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্য নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর না পেরোলে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হন।স্পিকার জানিয়েছেন, গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেয় তা দেখার পর নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হবে। এরপর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কোনো বিরোধ দেখা দিলে সংবিধান অনুযায়ী সেটি নির্বাচন কমিশনের কাছে নিষ্পত্তির জন্য যেতে পারে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।অর্থাৎ বর্তমানে শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।