যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। তবে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি। বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে কিছুটা অগ্রগতি হলেও তাইওয়ান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইরান ইউক্রেন যুদ্ধ ও মানবাধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে উল্লেখযোগ্য কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াশিংটন সফর করেন। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প। পরে হোয়াইট হাউসে দুই নেতা প্রায় ৯০ মিনিট বৈঠক করেন।
ট্রাম্প বৈঠকটিকে দারুণ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে বৈঠকের সবচেয়ে দৃশ্যমান ফলাফলগুলোর একটি হলো চীন থেকে দুটি জায়ান্ট পান্ডা শিগগিরই আটলান্টার চিড়িয়াখানায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত।
দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় ইস্যু বাণিজ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বেড়েছিল। চীনও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজের রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। এসব খনিজ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশ বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সরে আসার সমঝোতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে অগ্রসর হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে এই সময় বৃদ্ধি দুই দেশের মৌলিক মতপার্থক্য পুরোপুরি দূর করতে পারেনি।
আড়ও পড়ুন,সমঝোতা হলে ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে ইরান
তাইওয়ান ইস্যুও বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে।
বৈঠকে সি চিন পিং আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতার ক্ষেত্রে সঠিক অবস্থান বজায় রাখবে। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প কোনো নতুন অবস্থান গ্রহণ করেছেন কি না তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
সব মিলিয়ে দুই নেতার বৈঠকে বাণিজ্য নিয়ে সীমিত অগ্রগতি হলেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বড় কৌশলগত মতপার্থক্যগুলো বহাল রয়েছে। ফলে বৈঠকটি দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি বিরোধের কোনো চূড়ান্ত সমাধান আনতে পারেনি।
মতামত