শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ট্রাম্প সি বৈঠকে বাণিজ্য সমঝোতায় সামান্য অগ্রগতি

ট্রাম্প সি বৈঠকে বাণিজ্য সমঝোতায় সামান্য অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। তবে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি। বাণিজ্য সমঝোতা নিয়ে কিছুটা অগ্রগতি হলেও তাইওয়ান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইরান ইউক্রেন যুদ্ধ ও মানবাধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে উল্লেখযোগ্য কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াশিংটন সফর করেন। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প। পরে হোয়াইট হাউসে দুই নেতা প্রায় ৯০ মিনিট বৈঠক করেন।ট্রাম্প বৈঠকটিকে দারুণ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে বৈঠকের সবচেয়ে দৃশ্যমান ফলাফলগুলোর একটি হলো চীন থেকে দুটি জায়ান্ট পান্ডা শিগগিরই আটলান্টার চিড়িয়াখানায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত।দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় ইস্যু বাণিজ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের পর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বেড়েছিল। চীনও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজের রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। এসব খনিজ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশ বাণিজ্যযুদ্ধ থেকে সরে আসার সমঝোতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর বিষয়ে অগ্রসর হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে এই সময় বৃদ্ধি দুই দেশের মৌলিক মতপার্থক্য পুরোপুরি দূর করতে পারেনি।আড়ও পড়ুন,সমঝোতা হলে ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে ইরানতাইওয়ান ইস্যুও বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে।বৈঠকে সি চিন পিং আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতার ক্ষেত্রে সঠিক অবস্থান বজায় রাখবে। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প কোনো নতুন অবস্থান গ্রহণ করেছেন কি না তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।সব মিলিয়ে দুই নেতার বৈঠকে বাণিজ্য নিয়ে সীমিত অগ্রগতি হলেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বড় কৌশলগত মতপার্থক্যগুলো বহাল রয়েছে। ফলে বৈঠকটি দুই দেশের সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি বিরোধের কোনো চূড়ান্ত সমাধান আনতে পারেনি।

সমঝোতা হলে ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সাত দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব।শুক্রবার জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে আরাকচি বলেন কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছে তেহরান। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের।এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাকচি। বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তগুলো তুলে ধরা হয়।আরাকচি বলেন চাপ হুমকি বা ভয় দেখিয়ে ইরানকে কোনো সিদ্ধান্তে বাধ্য করা যাবে না। আরও পড়ুন,তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প চাপের মুখে দেশটি তার সার্বভৌম অধিকারও ছাড়বে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক হয় তাহলে সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরানের প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যে সাত দিনের জন্য সামরিক সংঘাত বন্ধের বিষয়টি রয়েছে। এর আওতায় লেবাননও থাকবে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় করা তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধের মতো শর্তও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানিয়েছেন ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের অবসানও তেহরানের দাবিগুলোর অন্যতম।হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি। ফলে এই নৌপথের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে।

 সমঝোতা হলে ৭ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে ইরান

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে সমঝোতা

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি আরও বাড়াতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার স্থায়ী সক্ষমতা থাকবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছেন, সমঝোতাটি গ্রিনল্যান্ডকে উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবে রাখবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সামরিক উপস্থিতি ঠেকাতে সহায়তা করবে।তবে এই সমঝোতার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হচ্ছে না। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবেই থাকছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা জানিয়েছেন, সমঝোতাটি তাদের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।নতুন সমঝোতার আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশ সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বাইরে অন্য দেশগুলোর সংবেদনশীল বিনিয়োগও সীমিত করার ব্যবস্থা থাকছে। আড়ও পড়ুন,মণিপুরের ত্রাণশিবিরে মৃত্যু নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষোভতবে ঠিক কতটি নতুন ঘাঁটি তৈরি হবে বা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পরিধি কতটা বাড়বে সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫১ সালের চুক্তির মাধ্যমে সেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিমান চলাচলের ব্যাপক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস ফোর্স ঘাঁটি রয়েছে। নতুন সমঝোতা মূলত বিদ্যমান সামরিক অধিকারকে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি করার পথ তৈরি করছে।গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থানও এ সমঝোতার অন্যতম কারণ। আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য সামরিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি নিয়েও ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এসব প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সামরিক ঘাঁটি ও সংবেদনশীল বিনিয়োগ সীমিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।তবে সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অধিকার কতটা বিস্তৃত হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও এর কোন কোন ধারা বহাল থাকবে তা নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়েছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা অবশ্য জানিয়েছেন, সমঝোতার লক্ষ্য আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া।

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে সমঝোতা