রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে সমঝোতা

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে সমঝোতা

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি আরও বাড়াতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার স্থায়ী সক্ষমতা থাকবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও বলেছেন, সমঝোতাটি গ্রিনল্যান্ডকে উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবে রাখবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সামরিক উপস্থিতি ঠেকাতে সহায়তা করবে।তবে এই সমঝোতার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হচ্ছে না। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবেই থাকছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা জানিয়েছেন, সমঝোতাটি তাদের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।নতুন সমঝোতার আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশ সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বাইরে অন্য দেশগুলোর সংবেদনশীল বিনিয়োগও সীমিত করার ব্যবস্থা থাকছে। আড়ও পড়ুন,মণিপুরের ত্রাণশিবিরে মৃত্যু নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষোভতবে ঠিক কতটি নতুন ঘাঁটি তৈরি হবে বা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পরিধি কতটা বাড়বে সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। ১৯৫১ সালের চুক্তির মাধ্যমে সেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিমান চলাচলের ব্যাপক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস ফোর্স ঘাঁটি রয়েছে। নতুন সমঝোতা মূলত বিদ্যমান সামরিক অধিকারকে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি করার পথ তৈরি করছে।গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থানও এ সমঝোতার অন্যতম কারণ। আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য সামরিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি নিয়েও ওয়াশিংটনের উদ্বেগ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এসব প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সামরিক ঘাঁটি ও সংবেদনশীল বিনিয়োগ সীমিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।তবে সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অধিকার কতটা বিস্তৃত হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও এর কোন কোন ধারা বহাল থাকবে তা নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়েছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা অবশ্য জানিয়েছেন, সমঝোতার লক্ষ্য আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া।