আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা অব ম্যানেজমেন্ট (লার্নিং) কোর্স বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। আগামী ৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য কোর্সটিতে ভর্তি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরও কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হোয়াটসঅ্যাপ ও বিভিন্ন শিক্ষা-অভিবাসন এজেন্টের মাধ্যমে কোর্সটিতে দ্রুত ভর্তি হওয়ার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কোর্স ফিতে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি একই দিনে অফার লেটার ও ভর্তি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিচ্ছে। কোথাও আবার অভিবাসন এজেন্টদের জন্য বিশেষ কমিশনের কথাও প্রচার করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর থেকে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা অব ম্যানেজমেন্ট (লার্নিং) কোর্সে ভর্তি বন্ধ হবে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৪৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোর্সটি পড়ানো হচ্ছে এবং ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অধ্যয়নরত। এ ছাড়া কোর্সটিতে ভর্তির জন্য ৪০ হাজারের বেশি আবেদন নিবন্ধিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আড়ও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের পথে চীনের দুই জায়ান্ট পান্ডা
সরকারের আশঙ্কা, কিছু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রকৃত শিক্ষাগত উদ্দেশ্যের পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান ও ভিসার মেয়াদ ধরে রাখার জন্য কোর্সটি ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে উচ্চতর পর্যায়ের পড়াশোনা থেকে তুলনামূলক নিম্ন পর্যায়ের এ ধরনের কোর্সে স্থানান্তরের প্রবণতা সরকারের নজরে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্য কোর্স থেকে গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা অব ম্যানেজমেন্ট (লার্নিং) কোর্সে শিক্ষার্থী স্থানান্তরের সংখ্যা ২০২০ সালে ৫১০ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৪ হাজারে পৌঁছেছে। একই বছর কোর্সটিতে ভর্তির অনুমোদন পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক এখনো পড়াশোনা শুরু করেনি বলেও সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কোর্সটি বন্ধের সিদ্ধান্তের পর সেপ্টেম্বরজুড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে দ্রুত ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কোনো কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ২১ সেপ্টেম্বর ও ২ অক্টোবর বিশেষ ভর্তি কার্যক্রমের তারিখ ঘোষণা করেছে। ফলে কোর্সে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের মাত্র কয়েক দিন আগেও ভর্তি নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।অস্ট্রেলিয়া সরকার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কোর্স পরিবর্তনের নিয়ম আরও কঠোর করেছে। এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে কোর্স পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে নতুন ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। সরকারের ভাষ্য, ভিসার শর্ত এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা ঠেকাতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার (IEAA) প্রধান নির্বাহী ফিল হানিউড কোর্সটি বাতিলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।
আড়ও পড়ুন,উচ্চ দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এশিয়া
তাঁর মতে, শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে যারা ভিসা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, উচ্চমানের আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় যথেষ্ট সুযোগ থাকবে। এদিকে কোর্সটিতে ইতোমধ্যে পড়াশোনা শুরু করা শিক্ষার্থীদের তা শেষ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ভর্তি নির্ধারিত ছিল, তাদের ক্ষেত্রে ভিসার শর্ত পূরণে বিকল্প উচ্চতর কোর্সে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের একই সময়ে একাধিক কোর্স করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার মান বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার অখণ্ডতা রক্ষাই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করতে সাম্প্রতিক সময়ে কোর্স পরিবর্তন ও শিক্ষার্থী ভিসা সংক্রান্ত নিয়মে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মতামত