শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

উচ্চ দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এশিয়া


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

উচ্চ দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এশিয়া
জ্বালানির দিকে এশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি পরিবহন বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক গ্যাসের বাজারে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এশিয়ার বাজারে এলএনজির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশ্বের এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর বড় একটি অংশ আসত কাতার থেকে। সংঘাতের কারণে এই সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় এশিয়ার এলএনজির প্রধান মূল্যসূচক জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।বছরের শুরুতে জেকেএমে এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট বা এমএমবিটিইউ ১০ ডলারের নিচে ছিল। মার্চে তা ২২ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে কিছুটা কমলেও আবার বাড়তে শুরু করে এবং গত সপ্তাহে ২৫ ডলারের ওপরে উঠে বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

দাম বাড়ায় স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এলএনজি রফতানিকারক দেশগুলো বেশি আয় করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির এলএনজি রফতানি প্রায় সর্বোচ্চ সক্ষমতার পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশটির এলএনজি রফতানি ২৩ শতাংশ বেড়েছে।তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি এলএনজি খাতের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবর্তে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

ভারতে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন সময়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫ শতাংশ কমেছে। থাইল্যান্ড ১০ লাখ পরিবারকে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে সহায়তার পরিকল্পনা করেছে। এতে পাঁচ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।ভিয়েতনামের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভিনগ্রুপ প্রায় ৬৮০ কোটি ডলারের একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

আড়ও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের পথে চীনের দুই জায়ান্ট পান্ডা

পাকিস্তানও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে এগোচ্ছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় ২০৩৫ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৯০ শতাংশ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য জানিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের ব্যয় কমার পাশাপাশি বড় আকারের ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির দাম কমে যাওয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন অনেক দেশের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টারের বিস্তারের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। তবে গ্যাস টারবাইনের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাধা তৈরি করছে।

আন্তর্জাতিক গ্যাস ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির আশা করলেও হরমুজ সংকট এশিয়ার জ্বালানি পরিকল্পনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উচ্চমূল্য, সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং তুলনামূলক সস্তা নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ভবিষ্যতে এলএনজির চাহিদা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

বিষয় : দাম এশিয়া উচ্চ

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


উচ্চ দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এশিয়া

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি পরিবহন বারবার ব্যাহত হচ্ছে। এতে বৈশ্বিক গ্যাসের বাজারে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এশিয়ার বাজারে এলএনজির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বিশ্বের এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর বড় একটি অংশ আসত কাতার থেকে। সংঘাতের কারণে এই সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় এশিয়ার এলএনজির প্রধান মূল্যসূচক জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।বছরের শুরুতে জেকেএমে এলএনজির দাম প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট বা এমএমবিটিইউ ১০ ডলারের নিচে ছিল। মার্চে তা ২২ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে কিছুটা কমলেও আবার বাড়তে শুরু করে এবং গত সপ্তাহে ২৫ ডলারের ওপরে উঠে বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

দাম বাড়ায় স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এলএনজি রফতানিকারক দেশগুলো বেশি আয় করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির এলএনজি রফতানি প্রায় সর্বোচ্চ সক্ষমতার পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশটির এলএনজি রফতানি ২৩ শতাংশ বেড়েছে।তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি এলএনজি খাতের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবর্তে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।

ভারতে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন সময়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫ শতাংশ কমেছে। থাইল্যান্ড ১০ লাখ পরিবারকে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে সহায়তার পরিকল্পনা করেছে। এতে পাঁচ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।ভিয়েতনামের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ভিনগ্রুপ প্রায় ৬৮০ কোটি ডলারের একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

আড়ও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের পথে চীনের দুই জায়ান্ট পান্ডা

পাকিস্তানও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে এগোচ্ছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় ২০৩৫ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৯০ শতাংশ পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্য জানিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের ব্যয় কমার পাশাপাশি বড় আকারের ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির দাম কমে যাওয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন অনেক দেশের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টারের বিস্তারের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। তবে গ্যাস টারবাইনের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাধা তৈরি করছে।

আন্তর্জাতিক গ্যাস ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির আশা করলেও হরমুজ সংকট এশিয়ার জ্বালানি পরিকল্পনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উচ্চমূল্য, সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং তুলনামূলক সস্তা নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ভবিষ্যতে এলএনজির চাহিদা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একাংশ।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
উচ্চ দামে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এশিয়া
0:00 0:00
1.0x