দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তিন কারা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। দুদকের অনুসন্ধানে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. রফিকুল ইসলাম, একই কারাগারের ফ্যাক্টরি ওভারশিয়ার মো. জহুরুল ইসলাম এবং নড়াইল জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার সাইফুল ইসলামের নামে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। দুদক জানায়, মো. রফিকুল ইসলামের নামে ২০২৫-২৬ করবর্ষ পর্যন্ত স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৬০ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট সম্পদ অর্জনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ ৩২ হাজার ৪৯৬ টাকা। এর বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ৬৬ লাখ ১১ হাজার ৫৬৫ টাকা। এতে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ২১১ টাকা। অন্যদিকে মো. জহুরুল ইসলামের নিজের নামে কোনো স্থাবর সম্পদ না থাকলেও তার স্ত্রীর নামে ১০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং তার নিজের নামে ৫২ লাখ ৭৬ হাজার ২৮৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে।
আড়ও পড়ুন,৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়া ৪৬ জনের গেজেট সোমবার
পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ ৯২ লাখ ৩ হাজার ৬৬৫ টাকা। এর বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় ৫০ লাখ ৫২ হাজার ২৯৬ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ৪১ লাখ ৫১ হাজার ৩৬৯ টাকা। এদিকে নড়াইল জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার সাইফুল ইসলামের নামে ২৬ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। পারিবারিক ব্যয়সহ মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫৪ টাকা। এর বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় ২০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫৪ টাকা। অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ১১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক আইন ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে তিনটি সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাজশাহীর উপসহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন।
মতামত