ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান ড্রোন ও হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব আকাশযানের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বুধবার নিউইয়র্ক পোস্ট ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া আকাশযানের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২টি এফ-১৫ইয়ের মধ্যে তিনটি ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় অর্থাৎ ফ্রেন্ডলি ফায়ারে ভূপাতিত হয়। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের দাম ছিল ৩ কোটি ডলারের বেশি। পরের মাসে ইরানের আকাশে আরও একটি এফ-১৫ই ভূপাতিত হয়। এছাড়া সেপ্টেম্বরের ৯ ও ১০ তারিখ জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পরে এসব বিমান আবারও কাজে ফিরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ক্ষতির তালিকায় রয়েছে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য ৩ থেকে ৫ কোটি ডলারের মধ্যে। এসব ড্রোন হারানোর ফলে মার্কিন বিমানবাহিনীর রিপার বহর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ইরানের হামলায় ১৯ মার্চ একটি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন,শুক্রবার ঘোষণা হবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কা
পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিটির মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি। এছাড়া প্রায় ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানও হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এপ্রিল মাসে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু স্থল আক্রমণকারী বিমান হারায় যুক্তরাষ্ট্র। সেপ্টেম্বরে জর্ডানে ইরানি হামলার সময় আরও একটি এ-১০ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তালিকায় এফ-১৫ই ও এফ-৩৫এ ছাড়াও রয়েছে দুটি এ-১০, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ যুদ্ধ-উদ্ধার হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক হেলিকপ্টার। এদিকে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে গত মাসে এই যুদ্ধের মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৬০ কোটি ডলারে। আগস্টের তুলনায় এক মাসে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। একই সময়ে অস্ত্রের খরচও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের সর্বশেষ হিসাবে অস্ত্রের খরচ ২১৭০ কোটি ডলার হলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৮১০ কোটি ডলার।
মতামত