শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান

সার পরিবহনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাবে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির প্রস্তাব, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে সার পরিবহনের ব্যবস্থা করা হোক। বুধবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের ফাঁকে রয়টার্সকে এ কথা জানান জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা। তিনি বলেন, বীজ বপনের মৌসুম ঘনিয়ে আসায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে সম্মত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত সময়ে কৃষকেরা সার না পেলে ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে খাদ্যের বাজারেও, বাড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। জাতিসংঘের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওমানে সংস্থাটির কর্মীদের পরিচালনায় একটি সমন্বয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এই কেন্দ্র থেকে জাহাজ নিবন্ধন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল তদারকি করা হবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে মাত্র সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে এ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন দা সিলভা।আরোও পড়ুন,জ্যোতিনগর কলোনিতে পানিসংকট, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগতাঁর মতে, প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করতে পারলেও জরুরি ভিত্তিতে সার প্রয়োজন এমন দেশগুলোতে সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। এদিকে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দামও বাড়ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার খাদ্যমূল্য সূচক সেপ্টেম্বরে প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা এর অন্যতম কারণ। এল নিনোর প্রভাবে চিনির দাম ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। অন্যদিকে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে গমের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দামও তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইউরিয়া ও সালফারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সার এবং সার তৈরির কাঁচামাল পরিবহনও সংকটে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট ইউরিয়া পরিবহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত সালফারের প্রায় অর্ধেক এই প্রণালি দিয়ে যেত। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্যনিরাপত্তার সংকট আরও গভীর হতে পারে। তাই সম্ভাব্য বড় ধরনের খাদ্যসংকট এড়াতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন স্বাভাবিক করতে দ্রুত আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর জোর দিচ্ছে জাতিসংঘ।

হরমুজে জাহাজে হামলা বাড়াচ্ছে ইরান, চাপে বিশ্ববাজার

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া রাখতে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ধরন ও গতি পরিবর্তন করেছে দেশটি। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তেহরান। বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরানের হুমকি ও হামলার কারণে প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আরোও পড়ুন,রিয়াদ বিমানবন্দরে একের পর এক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার উদ্বেগ সৌদিরএতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে বিধিনিষেধ অমান্যকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নতুন ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল প্রয়োগ শুরু করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করাই এই কৌশলের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ছোট নৌযানে অস্ত্রবিহীন পর্যবেক্ষক বা ‘স্পটার’ ব্যবহার করছে। এসব পর্যবেক্ষক মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি সংকট যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। সংঘাতের অবসানে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। দেশটির বন্দর ঘিরে নৌ অবরোধ জোরদার এবং নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

হরমুজে জাহাজে হামলা বাড়াচ্ছে ইরান, চাপে বিশ্ববাজার

ইরান নিয়ে সামরিক পদক্ষেপে বিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে সামরিক হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে হামলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি।আরও পড়ুন,বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় বিশ্বনেতাদের চাপ বাড়ানোর আহ্বান অ্যাক্সিওসের সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছে। ওয়াশিংটন সহজ কিংবা কঠিন যেকোনো উপায়ে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সর্বাত্মক হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের নতুন পর্যায় শুরু হয়। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সাময়িক যুদ্ধবিরতি বারবার ভেঙে পড়েছে। সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন দেশে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানির দাম। ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে সামরিক অভিযান না চালানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা কতটা সফল হবে এবং এর মাধ্যমে সংঘাতের স্থায়ী অবসান সম্ভব হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ইরান নিয়ে সামরিক পদক্ষেপে বিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধে ৮১ মার্কিন আকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান ড্রোন ও হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব আকাশযানের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বুধবার নিউইয়র্ক পোস্ট ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া আকাশযানের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২টি এফ-১৫ইয়ের মধ্যে তিনটি ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় অর্থাৎ ফ্রেন্ডলি ফায়ারে ভূপাতিত হয়। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের দাম ছিল ৩ কোটি ডলারের বেশি। পরের মাসে ইরানের আকাশে আরও একটি এফ-১৫ই ভূপাতিত হয়। এছাড়া সেপ্টেম্বরের ৯ ও ১০ তারিখ জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও আটটি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পরে এসব বিমান আবারও কাজে ফিরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ক্ষতির তালিকায় রয়েছে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। প্রতিটি ড্রোনের মূল্য ৩ থেকে ৫ কোটি ডলারের মধ্যে। এসব ড্রোন হারানোর ফলে মার্কিন বিমানবাহিনীর রিপার বহর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ইরানের হামলায় ১৯ মার্চ একটি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।আরও পড়ুন,শুক্রবার ঘোষণা হবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কা পঞ্চম প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিটির মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি। এছাড়া প্রায় ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানও হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এপ্রিল মাসে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু স্থল আক্রমণকারী বিমান হারায় যুক্তরাষ্ট্র। সেপ্টেম্বরে জর্ডানে ইরানি হামলার সময় আরও একটি এ-১০ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তালিকায় এফ-১৫ই ও এফ-৩৫এ ছাড়াও রয়েছে দুটি এ-১০, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ যুদ্ধ-উদ্ধার হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক হেলিকপ্টার। এদিকে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে গত মাসে এই যুদ্ধের মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৬০ কোটি ডলারে। আগস্টের তুলনায় এক মাসে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। একই সময়ে অস্ত্রের খরচও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের সর্বশেষ হিসাবে অস্ত্রের খরচ ২১৭০ কোটি ডলার হলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৮১০ কোটি ডলার।

ইরান যুদ্ধে ৮১ মার্কিন আকাশযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে প্রস্তুত ইরান

তবে এর জন্য ওয়াশিংটনকে প্রথমে কূটনৈতিক পথে সংকট সমাধানের আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দিতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী এরপর আলোচনার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে তার একটি সময়সূচি নিয়েও দুই পক্ষকে একমত হতে হবে।ইরানের এই বার্তা এসেছে এমন সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রোববার ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড সতর্ক করে বলেছে আঞ্চলিক দেশগুলোর সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তাদের জানানো হয়েছে। এর জবাবে তেহরান কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এদিকে ইরানের প্রতিনিধি দল বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রয়েছে। ইরানি ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার পূর্ণ ক্ষমতা প্রতিনিধি দলকে দেওয়া হয়েছে।ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও মঙ্গলবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।আড়ও পড়ুন,ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র তবে ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ইরানের দাবি অনুযায়ী ১৬ সেপ্টেম্বর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তেহরানের একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।ইরানি ওই কর্মকর্তা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিতে ফেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী ওয়াশিংটন বাস্তব পদক্ষেপ নিলে তেহরানও কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে প্রস্তুত।এরই মধ্যে ইরানের হরমুজ পুনরায় খোলার সম্ভাবনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মঙ্গলবার তেলের দাম কমে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে প্রস্তুত ইরান

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখনো সম্ভাব্য বৈঠকের দিনক্ষণ বা আনুষ্ঠানিক সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে ওয়াশিংটন উন্মুক্ত রয়েছে। মঙ্গলবার এনবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।রুবিও বলেন ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এমন বৈঠক তখনই আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে যখন এর মাধ্যমে ইতিবাচক কোনো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। রুবিও বলেন ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র এটি হতে দিতে চায় না।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। আড়ও পড়ুন,নিউইয়র্কের দুই বিমানবন্দরে সাময়িক ফ্লাইট বন্ধএই সময় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের মধ্যে বৈঠক এবং কূটনৈতিক আলোচনা হয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।তবে দুই দেশের মধ্যে বৈঠক আদৌ হবে কি না এবং হলে সেখানে কী বিষয়ে আলোচনা হবে সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে। সম্ভাব্য এই বৈঠক হলে পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যকার অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আলোচনার প্রধান গুরুত্ব ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেই বিষয়টির ওপরই দেওয়া হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা হলে পরিণতি ভোগ করতে হবে

মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান।রোববার আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।ইরানের সামরিক সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া এক বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি এই সতর্কবার্তা দেয়।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সামরিক অভিযানে কোনো আঞ্চলিক দেশ নিজেদের যুক্ত করলে তাদের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।ইরানের সামরিক সদর দপ্তর আরও বলেছে, আঞ্চলিক দেশগুলো যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করে তাহলে পরবর্তীতে তারা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে সংযম বা সৌজন্য আশা করতে পারবে না।আড়ও পড়ুন,চীনা নাগরিক ও বিদেশিদের দেশ ছাড়ায় বাড়ল নিয়ন্ত্রণবিবৃতিতে ইরান এ অঞ্চলের দেশগুলোর নীতিকে দ্বিমুখী হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, শক্তিশালী ও সার্বভৌম ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো বড় ধরনের আগ্রাসনে আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।ইরানের সামরিক সদর দপ্তর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি বা অন্য কোনো সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়টি তারা গভীরভাবে বিবেচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভূমিকাকে সেই অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে।এদিকে ইরানের এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।তবে ইরানের এই বক্তব্যের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার কথা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা হলে পরিণতি ভোগ করতে হবে

ইরান যুদ্ধে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসকে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন।সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।পেন্টাগনের হিসাবে, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। এর বাইরে অতিরিক্ত জ্বালানি বাবদ খরচ হয়েছে আরও ১৫০ কোটি ডলার।সব মিলিয়ে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় কয়েক লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ।তবে এটিই ইরান যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের হিসাব নয়।কারণ ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা ও ভবন মেরামতের ব্যয় এখনো এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে যুদ্ধের চূড়ান্ত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।পেন্টাগনের হিসাবে যুদ্ধের বড় একটি অংশের অর্থ ব্যয় হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদে। ইরান অভিযানে ব্যবহৃত বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতেও যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন, বিমান পরিচালনা, আড়ও পড়ুন,ইয়েমেনে সৌদি বাহিনী ও হুথিদের সংঘাত তীব্রনৌবাহিনী ও সেনাদের মোতায়েনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে আরও কয়েক বিলিয়ন ডলার।এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট কার্যালয়ও জানিয়েছিল, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দ্রুত বাড়তে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, শুধু যুদ্ধ পরিচালনার খরচ নয়—যুদ্ধের পর ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতেও যুক্তরাষ্ট্রকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হবে।ফলে পেন্টাগনের বর্তমান ৪ হাজার ৫১০ কোটি ডলারের হিসাবকে ইরান যুদ্ধের চূড়ান্ত ব্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ততই বাড়বে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যয়ের চাপ।এখন বড় প্রশ্ন—ইরান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা দীর্ঘ এবং কতটা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

ইরান যুদ্ধে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজে তৃতীয় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান।দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এটি তাদের হাতে ধ্বংস হওয়া তৃতীয় মার্কিন এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন।মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালির আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন শনাক্ত করার পর সেটিকে অনুসরণ করা হয়। পরে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে।ইরানের দাবি, ড্রোনটি দেশটির সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নজরদারির মধ্যে ছিল। একপর্যায়ে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটিকে ধ্বংস করা হয়।আড়ও পড়ুন,কক্ষপথে মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্রইরানের ভাষ্য, কোনো ধরনের হামলা চালানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে।এর কয়েক ঘণ্টা আগেও একই এলাকায় আরেকটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছিল ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এর আগে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আরও একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি জানিয়েছিল ইরানের সেনাবাহিনী।সাম্প্রতিক এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।ইরান বলছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সামরিক ও সামুদ্রিক তৎপরতার ওপর নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হয়েছে।এদিকে, সামরিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র পুরোনো এমকিউ-১ মডেলের ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে।তবে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ভূপাতিতের দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।ফলে ইরানের দাবির সত্যতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ কোনো নিশ্চয়তা নেই। হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই নজর এখন পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে।

হরমুজে তৃতীয় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালীতে ৭৭ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজের তালিকা ইরানের

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ৭৭টি জাহাজের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে ইরান।সোমবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ইরানের পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব জাহাজকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।ভবিষ্যতে এসব জাহাজের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানা, আটক অথবা জব্দের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা করা বাণিজ্যিক জাহাজও ভবিষ্যতে এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।তবে ওয়াশিংটনের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।আড়ও পড়ুন,সাফারি পার্কে থেকেও মুক্তি নেই দুই লেপার্ডেরইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন এবং ক্ষতিপূরণসহ তাদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না।ফলে নতুন করে ৭৭টি জাহাজের তালিকা প্রকাশ এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জাহাজের বিরুদ্ধে জরিমানা আটক বা জব্দের হুঁশিয়ারিতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ৭৭টি জাহাজের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে ইরানের পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ।ইরানের অভিযোগ, এসব জাহাজ দেশটির প্রটোকল লঙ্ঘন করেছে। তাই ভবিষ্যতে তাদের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।তালিকাভুক্ত জাহাজের বিরুদ্ধে জরিমানা, আটক কিংবা জব্দের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও তালিকায় যুক্ত করার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। এ পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান দীর্ঘদিনের।যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের অবস্থান হলো তাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন এবং ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না।

হরমুজ প্রণালীতে ৭৭ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজের তালিকা ইরানের