শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথ


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথ
চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথ

দেশভাগের পর দীর্ঘ ৭০ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও সচল হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক নৌবাণিজ্যপথ। ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে পণ্যবাহী জাহাজ। এই উদ্যোগকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ৫ অক্টোবর আসামের ব্রহ্মপুত্র নদের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয় ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামের একটি কার্গো জাহাজ। জাহাজটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ‘কুশল কোঁয়র’ নামের একটি শক্তিশালী টাগবোট। মিথানল উৎপাদন করেছে আসাম সরকারের প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের নামরূপ কারখানা। ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয় এই যাত্রাকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কারণ, স্বাধীনতার পর এই প্রথম আসামের ডিব্রুগড় থেকে উৎপাদিত কোনো বাণিজ্যিক পণ্য সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে নদীপথে পাঠানো হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজটি ভারতের জাতীয় নৌপথ-২ ধরে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার অতিক্রম করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট ও বাণিজ্য প্রটোকল রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পানগাঁও বন্দরের দিকে এগিয়ে যাবে। বগিবিল থেকে পানগাঁও পর্যন্ত মোট দূরত্ব প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার।

আরোও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কানাডা

 এই নৌপথ চালুর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে আসামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি পণ্য সরবরাহও সহজ হতে পারে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই উদ্যোগকে রাজ্যের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে নৌপথটি কতটা লাভজনক হবে, তা নির্ভর করবে পণ্য পৌঁছানোর সময়, পরিবহন খরচ এবং নিয়মিত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর। এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে টাটা স্টিলের পণ্যবাহী বার্জ ভারতের পান্ডুতে পৌঁছেছিল। ২০২৩ সালে পর্যটকবাহী ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ও বাংলাদেশ অতিক্রম করে ডিব্রুগড়ের পথে যাত্রা করেছিল। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, আসাম থেকে সরাসরি বাংলাদেশের উদ্দেশে বাণিজ্যিক পণ্য পাঠানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চালানের মাধ্যমে এই নৌপথের পূর্ণ সম্ভাবনা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। নিয়মিত পণ্য পরিবহন এবং ফিরতি পথে পণ্য বহনের সুযোগ তৈরি হলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও গতিশীল হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ঐতিহাসিক এই যাত্রা কত দ্রুত একটি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বাণিজ্যপথে পরিণত হয়।

বিষয় : বাংলাদেশ নৌবাণিজ্যপথ চালু

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশভাগের পর দীর্ঘ ৭০ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও সচল হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক নৌবাণিজ্যপথ। ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে পণ্যবাহী জাহাজ। এই উদ্যোগকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ৫ অক্টোবর আসামের ব্রহ্মপুত্র নদের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয় ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামের একটি কার্গো জাহাজ। জাহাজটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ‘কুশল কোঁয়র’ নামের একটি শক্তিশালী টাগবোট। মিথানল উৎপাদন করেছে আসাম সরকারের প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের নামরূপ কারখানা। ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয় এই যাত্রাকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কারণ, স্বাধীনতার পর এই প্রথম আসামের ডিব্রুগড় থেকে উৎপাদিত কোনো বাণিজ্যিক পণ্য সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে নদীপথে পাঠানো হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজটি ভারতের জাতীয় নৌপথ-২ ধরে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার অতিক্রম করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট ও বাণিজ্য প্রটোকল রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পানগাঁও বন্দরের দিকে এগিয়ে যাবে। বগিবিল থেকে পানগাঁও পর্যন্ত মোট দূরত্ব প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার।

আরোও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কানাডা

 এই নৌপথ চালুর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে আসামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি পণ্য সরবরাহও সহজ হতে পারে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই উদ্যোগকে রাজ্যের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে নৌপথটি কতটা লাভজনক হবে, তা নির্ভর করবে পণ্য পৌঁছানোর সময়, পরিবহন খরচ এবং নিয়মিত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর। এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে টাটা স্টিলের পণ্যবাহী বার্জ ভারতের পান্ডুতে পৌঁছেছিল। ২০২৩ সালে পর্যটকবাহী ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ও বাংলাদেশ অতিক্রম করে ডিব্রুগড়ের পথে যাত্রা করেছিল। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, আসাম থেকে সরাসরি বাংলাদেশের উদ্দেশে বাণিজ্যিক পণ্য পাঠানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চালানের মাধ্যমে এই নৌপথের পূর্ণ সম্ভাবনা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। নিয়মিত পণ্য পরিবহন এবং ফিরতি পথে পণ্য বহনের সুযোগ তৈরি হলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও গতিশীল হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ঐতিহাসিক এই যাত্রা কত দ্রুত একটি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বাণিজ্যপথে পরিণত হয়।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথ
0:00 0:00
1.0x