শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
মিয়ানমার হয়ে চীন করিডোরে ইতিবাচক ঢাকা

মিয়ানমার হয়ে চীন করিডোরে ইতিবাচক ঢাকা

মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ থেকে চীন পর্যন্ত প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক শঙ্কা দেখছে না সরকার। বরং এ করিডোর বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে ঢাকা। তবে করিডোর চালুর আগে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার হয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে সরকারের কোনো ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ নেই। এ করিডোর বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আরও পড়ুন,ক্রসফায়ার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ফেরার অপেক্ষায় সরকারতবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান জরুরি। এদিকে আগামী ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টিকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একজন পলাতক সন্ত্রাসী। তার ক্ষেত্রে দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়। বরং বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে হস্তান্তরের বিষয়টি প্রযোজ্য। প্রস্তাবিত করিডোর বাস্তবায়ন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

সুইং বাড়লেও সাফল্য নেই বাংলাদেশের

ওয়ানডে ক্রিকেটে আইসিসির নতুন নিয়মে বলের সুইং বাড়লেও সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। বোলাররা বেশি সুইং পাচ্ছেন, কিন্তু উইকেট নেওয়ার সাফল্য বাড়ছে না। উল্টো বাড়ছে বোলিং গড় ও ওভারপ্রতি রান দেওয়ার হার। ব্যাটিংয়েও একই চিত্র। ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার বদলে পিছিয়ে পড়ছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এর সর্বশেষ উদাহরণ গত শনিবার আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৭১ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১৭২ রানে। ৯৯ রানের এই হার আবারও সামনে এনেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দুর্বলতা। ম্যাচটিতে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেও শেষ দিকে রান আটকাতে পারেননি। প্রথম ছয় ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তিন উইকেট নেওয়া তাসকিন ডেথ ওভারের দুই ওভারে খরচ করেন ১৯ রান। মোস্তাফিজুর রহমানও শেষ দিকে তিন ওভারে দেন ২৪ রান, পাননি কোনো উইকেট। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের আলোচনায় উঠে আসছে আইসিসির বল ব্যবহারের নতুন নিয়ম। ইনিংসের প্রথম ৩৪ ওভার দুই প্রান্ত থেকে দুটি আলাদা বল ব্যবহারের পর অধিনায়ক একটি বল বেছে নেন। শেষ ১৬ ওভার চলে সেই বলেই। আরও পড়ুন,জ্যোতির বদলে নেতৃত্বে নাহিদা সহ-অধিনায়ক সোবহানাপুরোনো ও খসখসে বল রিভার্স সুইংয়ের জন্য উপযোগী হওয়ায় শেষ দিকে বোলাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। ক্রিকভিজের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নতুন নিয়মে ডেথ ওভারে মোস্তাফিজের সুইং বেড়েছে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তাসকিনের বেড়েছে ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু তাঁদের বোলিং গড় ও ইকোনমি রেট উল্টো বেড়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের নাসিম শাহ ও দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডির মতো বোলাররা বাড়তি সুইংকে কাজে লাগিয়ে বোলিং গড় ও রান দেওয়ার হার কমিয়েছেন। ব্যাটিংয়ের পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক। নতুন নিয়ম চালুর আগে শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের রানরেট ছিল ৭ দশমিক ৮৪। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৬-তে। অর্থাৎ শেষ ১০ ওভারে গড়ে প্রায় ১২ রান কম তুলছে দলটি। তবে একই নিয়মে ভারত ও ইংল্যান্ডের মতো দল শেষ দিকে রান তোলার গতি বাড়িয়েছে। ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুরোনো বলের রিভার্স সুইং সামলানো এবং বোলিংয়ে বাড়তি সুইংকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো। সব মিলিয়ে আইসিসির নতুন নিয়ম বাংলাদেশের জন্য শুধু বোলিংয়ের পরীক্ষা নয়, ব্যাটিং কৌশল বদলেরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে বাংলাদেশ দলকে।

সুইং বাড়লেও সাফল্য নেই বাংলাদেশের

বিশ্বের খেলনার বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বের ১২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের খেলনার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। বিপরীতে, গত বছর চীন একাই রপ্তানি করেছে ৩ হাজার ৪৮২ কোটি ডলারের খেলনা। বিশাল এই বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো খুবই সীমিত। তবে গত অর্থবছরে দেশের খেলনা রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৬ কোটি ২৯ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি। বিশ্বের ৪১টি দেশে বাংলাদেশের খেলনা রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের খেলনা গেছে ইতালিতে। খেলনার বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারিত হলেও বাংলাদেশ এখনো বড় অংশীদার হতে পারেনি। উদ্যোক্তাদের মতে, বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির জটিলতা, নীতিসহায়তার অভাব, পণ্যের মানোন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি এবং ঘন ঘন লোডশেডিং এ শিল্পের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে খেলনা রপ্তানিতে চীনের আধিপত্য দীর্ঘদিনের। গত বছর দেশটি রপ্তানি করেছে ৩ হাজার ৪৮২ কোটি ডলারের খেলনা। আরও পড়ুন,আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলারতালিকায় চীনের পর রয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও মেক্সিকো। সেই তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো অনেক পিছিয়ে। দেশের খেলনা রপ্তানিতে বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ৪ কোটি ২১ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি করেছে সনিক বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বিভিন্ন গাড়ির ক্ষুদ্র মডেল তৈরি করে। এ ছাড়া উইন চ্যাম্পিয়ন প্রায় ৭৫ লাখ ডলার এবং বিপি ম্যানুফ্যাকচারিং ৪৮ লাখ ডলারের খেলনা রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে, জার্মান-বাংলাদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা কাপকেক এক্সপোর্টস এবং চীনা বিনিয়োগের মেইগো বাংলাদেশও এ খাতে রপ্তানি করছে। এদিকে, দেশীয় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের খেলনা আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারেও দেশীয় খেলনার চাহিদা পূরণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাদের মতে, কাঁচামাল আমদানি সহজ করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের খেলনা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি খেলনাকে রপ্তানি আয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গড়ে তুলতে এখন প্রয়োজন কার্যকর নীতিসহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

বিশ্বের খেলনার বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথ

দেশভাগের পর দীর্ঘ ৭০ বছর বন্ধ থাকার পর আবারও সচল হলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক নৌবাণিজ্যপথ। ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে পণ্যবাহী জাহাজ। এই উদ্যোগকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ৫ অক্টোবর আসামের ব্রহ্মপুত্র নদের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয় ‘ডিএলবি পাটকাই’ নামের একটি কার্গো জাহাজ। জাহাজটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ‘কুশল কোঁয়র’ নামের একটি শক্তিশালী টাগবোট। মিথানল উৎপাদন করেছে আসাম সরকারের প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের নামরূপ কারখানা। ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয় এই যাত্রাকে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কারণ, স্বাধীনতার পর এই প্রথম আসামের ডিব্রুগড় থেকে উৎপাদিত কোনো বাণিজ্যিক পণ্য সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে নদীপথে পাঠানো হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজটি ভারতের জাতীয় নৌপথ-২ ধরে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার অতিক্রম করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট ও বাণিজ্য প্রটোকল রুট ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পানগাঁও বন্দরের দিকে এগিয়ে যাবে। বগিবিল থেকে পানগাঁও পর্যন্ত মোট দূরত্ব প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার।আরোও পড়ুন,যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমাতে ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে কানাডা এই নৌপথ চালুর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে আসামের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি পণ্য সরবরাহও সহজ হতে পারে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই উদ্যোগকে রাজ্যের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে নৌপথটি কতটা লাভজনক হবে, তা নির্ভর করবে পণ্য পৌঁছানোর সময়, পরিবহন খরচ এবং নিয়মিত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর। এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে টাটা স্টিলের পণ্যবাহী বার্জ ভারতের পান্ডুতে পৌঁছেছিল। ২০২৩ সালে পর্যটকবাহী ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ও বাংলাদেশ অতিক্রম করে ডিব্রুগড়ের পথে যাত্রা করেছিল। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, আসাম থেকে সরাসরি বাংলাদেশের উদ্দেশে বাণিজ্যিক পণ্য পাঠানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চালানের মাধ্যমে এই নৌপথের পূর্ণ সম্ভাবনা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। নিয়মিত পণ্য পরিবহন এবং ফিরতি পথে পণ্য বহনের সুযোগ তৈরি হলে দুই দেশের বাণিজ্য আরও গতিশীল হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ঐতিহাসিক এই যাত্রা কত দ্রুত একটি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বাণিজ্যপথে পরিণত হয়।

৭০ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশ-আসাম নৌবাণিজ্যপথ

প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে, অন্যদিকে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেশের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক সভা চলাকালে মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ওই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াতে পারে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে। সেই হিসাবে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।আরও পড়ুন,দেশের বাজারে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমল সোনার দাম, কমেছে রুপাওআইএমএফের পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার বর্তমান পর্যায়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবৃদ্ধি কমে গেলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়লে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির অক্টোবর ২০২৬-এর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে বলা হয়েছে, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির সমস্যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কা, বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় কার্যকর না হলে সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, সরকার গঠনের জন্য জনগণ যেমন ভোট দিয়েছেন, তেমনি গণভোটেও নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। তাই জনগণের উভয় ভোটের রায়কে গুরুত্ব দিতে হবে। রোববার সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. রেজাউল করিম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ দুটি ভোট দিয়েছেন। এর একটি সরকার গঠনের জন্য, অন্যটি গণভোটে নিজেদের মতামত জানানোর জন্য। সরকার দলীয় ভোটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় এলেও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অস্বীকার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, একটি ভোট বৈধ হলে অন্য ভোট অবৈধ হবে কেন? গণভোটের রায় মেনে না নিলে সরকারের বৈধতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। নিজেদের লংমার্চের উদ্দেশ্য তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তাঁদের কর্মসূচি সরকার পতনের জন্য নয়; বরং গণভোটে জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে। আরও পড়ুন,এমপিদের জনগণের ভালো-মন্দ দেখতে হবে: রিজভীএকই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রেজাউল করিম আরও বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদককারবারিদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ দমন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সব রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং স্থিতিশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। ক্যাম্পেইনে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নাছিরুদ্দিন মাহমুদ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী, শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবুল ফারাহ নিশানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে উত্তর তেমুহনী এলাকায় মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি পথচারীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের

২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশও

বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহে সংকট, উচ্চ সুদহার ও সরকারি ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝায় চাপে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। এমন পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের বার্ষিক সভা। সোমবার, ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নিচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি ঋণের চাপ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার বিষয়গুলো এবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাব সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। আরও পড়ুন,ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা, বেড়েছে বেশির ভাগ মুদ্রার দরবিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বড় ধরনের ধাক্কার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা তুলনামূলকভাবে সামলানো সম্ভব হয়েছে। তবে ডিজেল ও সারের দাম বৃদ্ধি এবং এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে জ্বালানি সরবরাহের চাপ মোকাবিলায় জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে জি-৭ জোটের দেশগুলো বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ শতাংশ। তবে যুদ্ধের প্রভাব, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে এ পূর্বাভাস পরিবর্তিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরকারি ঋণ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। আইএমএফের আশঙ্কা, ২০৩০ সালের আগেই বৈশ্বিক সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। উচ্চ সুদহারের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে বাড়তে পারে আমদানি ব্যয়, চাপে পড়তে পারে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাহিদা কমে গেলে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০৩০ সালের আগেই বিশ্বঋণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর শঙ্কা, চাপে বাংলাদেশও

মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় সৌদি আরবকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের কোনো আপস নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। প্রয়োজন হলে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত বিনিয়োগ। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে ঢাকা। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রমবাজারও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ। আরও পড়ুন,প্রবাসী কর্মী পাঠানো ও আয় বৃদ্ধি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকএকই সঙ্গে প্রচলিত শ্রমশক্তি রপ্তানির সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করে কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় সরকার। হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া নয়; বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা। দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে বিশ্বাস ও আস্থা। এদিকে, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হলে মক্কায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অন্যদিকে, আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সফরে বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে সেমিনারে উঠে আসে।

মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় সৌদি আরবকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

দেশের রিজার্ভে ঊর্ধ্বগতি জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১৫৮ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ডলারের হিসাবে যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৩৪৯ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলারে। আরও পড়ুন,২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার দামও নির্ধারণ করল বাজুসঅর্থাৎ এই পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৩১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগের দিন ৭ অক্টোবর দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ হাজার ১২৩ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩১ হাজার ৩১১ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার। তুলনামূলক হিসাবে, এক দিনের ব্যবধানে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৩৪ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, গ্রস রিজার্ভ এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের মধ্যে গণনাপদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে দুই পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ এক নয়।

দেশের রিজার্ভে ঊর্ধ্বগতি জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

আবুধাবিতে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান তৃতীয় টেস্ট আজ

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। দুই দল প্রথমবার টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৯ সালে। এরপর ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্টে লড়াইয়ে নামে তারা। এবার আবুধাবিতে শুরু হচ্ছে দুই দলের মধ্যকার তৃতীয় টেস্ট। ম্যাচ শুরুর আগে আগের দুই টেস্টের ব্যাটিং ও বোলিং পরিসংখ্যান নিয়ে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। ব্যাটিংয়ে দুই দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান তিনি। সেই ম্যাচে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি তুলে নেন নাজমুল। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল ২৭০ রান। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট লড়াইয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন তিনি। তবে ২০১৯ সালে দুই দলের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের দলে ছিলেন না নাজমুল। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। দুই টেস্টেই খেলা মুমিনুলের সংগ্রহ ১৯১ রান। ২০২৩ সালের ম্যাচে নাজমুলের জোড়া সেঞ্চুরির পাশাপাশি সেঞ্চুরি করেছিলেন মুমিনুলও। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য তিন ব্যাটসম্যান হলেন আফগানিস্তানের আসগর আফগান, রহমত শাহ ও আফসার জাজাই। আরও পড়ুন,মেসির ঝুলিতে এবার সম্মানসূচক ডক্টরেটবোলিংয়ের পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। ২০১৯ সালে দুই দলের প্রথম টেস্টে অসাধারণ বোলিং করে ১১ উইকেট শিকার করেন তিনি। সেই ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্সই তাঁকে তালিকার শীর্ষে জায়গা করে দিয়েছে। তবে ২০২৩ সালের দ্বিতীয় টেস্টে দলে ছিলেন না রশিদ। এবারের টেস্টেও খেলছেন না এই আফগান স্পিনার। বোলারদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দুই টেস্টে তাঁর শিকার ৮ উইকেট। তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। দুই ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ৬ উইকেট। শীর্ষ পাঁচ বোলারের তালিকায় আরও রয়েছেন আফগানিস্তানের জহির খান ও বাংলাদেশের ইবাদত হোসেন। সব মিলিয়ে আগের দুই টেস্টে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। অন্যদিকে বোলিংয়ে রশিদ খানের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার তৃতীয় টেস্টে দুই দল নতুন করে লড়াইয়ে নামছে। আগের পরিসংখ্যানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, নাকি নতুন কেউ আলো ছড়ান, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আবুধাবিতে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান তৃতীয় টেস্ট আজ

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় অবস্থানে

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পতন হয়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। একই সময়ে চীন ও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ ও ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।তবে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার কিছুটা কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগস্ট শেষে চীন বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশ নেমে গেছে তৃতীয় অবস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আরও পড়ুন,দেশে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে লিটারপ্রতি ১৭ টাকাএই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৭৬ কোটি বর্গমিটার তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। পরিমাণের হিসাবে এই রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। প্রতি বর্গমিটার পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ০৭ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই মূল্যও কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে প্রথম আট মাসে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৫৬৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। ফলে বাংলাদেশের চেয়ে চীনের রপ্তানি প্রায় ২৪ কোটি ডলার বেশি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে ভিয়েতনাম। দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ১ হাজার ৯৮ কোটি ডলার। তবে তাদের রপ্তানিও কমেছে দশমিক ৭৬ শতাংশ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। শীর্ষ রপ্তানিকারকদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কিছুটা কমলেও চীন ও ভারতের তুলনায় পতনের হার কম। তবে রপ্তানির অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশকে এখন ভিয়েতনাম ও চীনের সঙ্গে বাড়তি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

 যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় অবস্থানে

মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার শ্রমিক পাঠাবে বাংলাদেশ

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এবার শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেবে সরকার। মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা বাংলাদেশে এসে নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক বাছাই করবেন বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। রোববার ৪ অক্টোবর সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। শ্রমমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার শ্রমিক নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় শুরুতে বিনামূল্যে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বা বোয়েসেল এবং অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে। মন্ত্রী বলেন, শুধু শ্রমিক পাঠালেই হবে না। নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে হবে। এজন্য আগে শ্রমিকের চাহিদা নির্ধারণ করা হবে। আরও পড়ুন,পাঁচ প্রকল্পে বদলে যাবে দেশের রেল যোগাযোগ বাড়বে পণ্য পরিবহনএরপর সেই চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা বাংলাদেশে এসে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক নির্বাচন করবেন। শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ছাড়া বিদেশে পাঠালে কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে আগের মতো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হয়রানি ও অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে শ্রমিক পাঠানোর সব প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়েও অনুমোদন বাকি রয়েছে। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। এদিকে দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরেই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীর চাহিদা নিয়ে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। সরকারের আশা, দক্ষতা অনুযায়ী শ্রমিক নির্বাচন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং আগের অনিয়ম ও হয়রানি কমানো সম্ভব হবে।

মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার শ্রমিক পাঠাবে বাংলাদেশ

অভিবাসন আইন না মানায় কানাডা থেকে ফেরত ৩৪০ বাংলাদেশি

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে কানাডা থেকে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি কানাডা থেকে অপসারণের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি সিবিএসএর ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত কানাডা বিশ্বজুড়ে মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জন বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন—৪ হাজার ২২৭ জন। এরপর মেক্সিকোর ২ হাজার ২৮২ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১ জন, কলম্বিয়ার ৫৮০ জন, হাইতির ৫৩৫ জন এবং রোমানিয়ার ৪৩৩ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।প্রথম ছয় মাসে ২২৭ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। আগস্ট শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪০ জনে। ফেরত পাঠানোর সংখ্যার হিসাবে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে।সিবিএসএর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের অপসারণের সবচেয়ে বড় কারণ অভিবাসন আইন না মানা। এ কারণে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ হাজার ৫ জন এবং আশ্রয়প্রার্থী নন—এমন আরও ১ হাজার ৭৯৪ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।আড়ও পড়ুন,পাকিস্তানের আকাশ এড়িয়ে চীনের হোটান আকাশপথ ব্যবহারের আলোচনা, ইউরোপগামী ফ্লাইটে নতুন সম্ভাবনাএ ছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ৮৯৭ জন এবং ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে ৮৮ জনকে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।অপসারণের আদেশের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭টি ছিল ডিপোর্টেশন অর্ডার, ৩ হাজার ৩০৩টি ডিপারচার অর্ডার এবং ৩ হাজার ১৭টি এক্সক্লুশন অর্ডার।অন্যদিকে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডা থেকে অপসারণের প্রক্রিয়ায় ছিলেন মোট ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে ভারতের ১০ হাজার ২৯৫ জন এবং মেক্সিকোর ৬ হাজার ১০২ জন। ১ হাজার ৩৬৮ জন নিয়ে এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।

অভিবাসন আইন না মানায় কানাডা থেকে ফেরত ৩৪০ বাংলাদেশি

দেশভাগের পর প্রথমবার ব্রহ্মপুত্র নৌপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসছে

দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো ব্রহ্মপুত্রের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হতে যাচ্ছে। আসামের ডিব্রুগড়ের বগীবিল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদপথে বাংলাদেশে পাঠানো হবে নামরূপের আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিএল) উৎপাদিত মিথানল।১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবহার করে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহন। ব্রিটিশ আমলে ব্রহ্মপুত্রকে কেন্দ্র করে ডিব্রুগড় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজ এই নৌপথ ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বিদেশের সঙ্গেও বাণিজ্য পরিচালনা করত। স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে সেই নদীপথভিত্তিক বাণিজ্য কমে যায়।কয়েক দশক পর নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রকেন্দ্রিক পুরোনো বাণিজ্যিক যোগাযোগ আবারও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহনের জন্য বগীবিল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট টার্মিনাল প্রায় প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিধার্থে সেখানে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা, আধুনিক জেটি ও গুদামঘর তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি ও কারিগরি সহায়তার জন্য একটি লাইটহাউস এবং ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ তৈরির কাজও চলছে।এপিএলের মিথানল পরিবহনের জন্য দুটি বিশেষ জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে থাকবে ২৭টি কনটেইনার। প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন করে মিথানল বহন করা হবে। ফলে একটি জাহাজে ৫৪০ টন এবং দুটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল পরিবহন করা সম্ভব হবে।বগীবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে জাহাজগুলোর আনুমানিক সাত দিন সময় লাগবে।আড়ও পড়ুন,ভারতে বাংলাদেশি পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্কএপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন বিভাগের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ প্রায় ৩০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। এপিএল জাহাজ দুটি লিজ নিয়ে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে এনে সম্পূর্ণ সংস্কার ও মেরামত করে বাণিজ্যিক চলাচলের উপযোগী করে তোলে। এখন সংস্কার করা এই দুই জাহাজই বগীবিল থেকে ঢাকা পর্যন্ত মিথানল পরিবহনে ব্যবহার করা হবে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক ও রেলপথের তুলনায় নদীপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। বগীবিল টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে মিথানলের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের আরও বিভিন্ন শিল্পপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।সম্ভাব্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে ব্রহ্মপুত্র ক্র্যাকার অ্যান্ড পলিমার লিমিটেডের (বিসিপিএল) উৎপাদিত সামগ্রী, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, কয়লা ও চা। পাশাপাশি আসামের কাজী লেবু বা অসমীয়া লেবু, ভূত জলোকিয়া ও গোলমরিচের মতো জিআই-ট্যাগপ্রাপ্ত কৃষিপণ্যও আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি রপ্তানির নতুন সুযোগ পেতে পারে।

দেশভাগের পর প্রথমবার ব্রহ্মপুত্র নৌপথে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসছে

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একাদশে চার পরিবর্তন, মাঠে বাংলাদেশ

লয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে FIFA ASEAN Cup-এর অভিযান শুরু করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হয়েছে ম্যাচটি।গ্রুপ ‘এ’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে হারার পর পরের ধাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর—দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল। ফলে এই ম্যাচে দুই দলের জন্যই পয়েন্ট সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একাদশে চারটি পরিবর্তন এনেছেন বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি। মালয়েশিয়া ম্যাচে শুরু থেকে খেলা সোহেল রানা ও শাকিল আহাদ তপু এবার একাদশে নেই। তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও জিদান ইউসুফ।আড়ও পড়ুন,অভিযোগের পর এসেক্সের হয়ে আর মাঠে নামেননি রবিনএ ছাড়া ফাহমিদুল ইসলামের পরিবর্তে একাদশে এসেছেন শেখ মোরসালিন। ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফারহান আলী ওয়াহিদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন সুকি ইতোফুসা।মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ বেশ কিছু সমস্যায় পড়েছিল। ওই ম্যাচে আরিফ আইমান দুটি গোল করেন এবং বার্গসন দা সিলভা করেন আরেকটি গোল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ।সিঙ্গাপুরও নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে দুই দলই ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে। FIFA-এর ম্যাচ-পূর্ব প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ম্যাচে পরাজিত দলের পরবর্তী পর্বে এগিয়ে যাওয়ার আশা শেষ হয়ে যাবে।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একাদশে চার পরিবর্তন, মাঠে বাংলাদেশ

অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধি মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’

অস্কারের ৯৯তম আসরে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের চলচ্চিত্র ‘রইদ’।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নির্বাচিত চলচ্চিত্র হিসেবে ‘রইদ’-এর নাম ঘোষণা করা হয়।বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের অধীনে গঠিত অস্কার বাংলাদেশ কমিটি ছবিটি নির্বাচন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে কমিটির চেয়ারম্যান ও বিএফএফএসের সভাপতি ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রইদ’-এর নাম ঘোষণা করেন।এবার বাংলাদেশের হয়ে অস্কারের আন্তর্জাতিক বিভাগে অংশ নিতে মোট পাঁচটি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমা দেওয়া ছবিগুলোর মধ্যে ছিল মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, রেদওয়ান রনির ‘দম’, নূরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের ‘দেলুপি’ এবং মনিরুল আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চাঁনখারপুল’।পরবর্তীতে ‘মানুষের বাগান’ স্বেচ্ছায় প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর বাকি চারটি চলচ্চিত্র নিয়ে সার্বিক পর্যালোচনা ও গুণগত বিশ্লেষণ করে অস্কার বাংলাদেশ কমিটি। শেষ পর্যন্ত সিলেকশন কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ‘রইদ’কে বেছে নেওয়া হয়।আড়ও পড়ুন,সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় সাদিয়া আয়মানের ক্ষোভমেজবাউর রহমান সুমনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’ মুক্তির পর দর্শক ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এবার তাঁর দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রইদ’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে।‘রইদ’ সিনেমার গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক সাধু ও তাঁর মানসিকভাবে অসুস্থ স্ত্রী। তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েন, ব্যক্তিগত জীবন এবং নানা বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে সিনেমার কাহিনি। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এখন অস্কারের পরবর্তী বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে ‘রইদ’। তবে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং অস্কারের মূল প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া একই বিষয় নয়।‘রইদ’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, জীবনবোধ ও মানুষের সম্পর্কের গল্প নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধি মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’