রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
আট বছর পরও অপূর্ণ আইয়ুব বাচ্চুর গিটার স্কুলের স্বপ্ন

আট বছর পরও অপূর্ণ আইয়ুব বাচ্চুর গিটার স্কুলের স্বপ্ন

১৫ লাখ দর্শকের সামনে গিটার হাতে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু। ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দেশি-বিদেশি নামী সংগীতশিল্পীদের নিয়ে বিশাল এক কনসার্ট আয়োজন করতে চেয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি নতুন গিটারবাদকদের নিয়ে প্রতিযোগিতা এবং একটি গিটার স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্নও ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্নগুলো পূরণ হওয়ার আগেই থেমে যায় তাঁর জীবনের পথচলা। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মারা যান এই কিংবদন্তি শিল্পী। তাঁর মৃত্যুর আট বছর পেরিয়ে গেলেও অপূর্ণ রয়ে গেছে অনেক স্বপ্ন। আইয়ুব বাচ্চুর কাছে গিটার ছিল শুধু বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং নিজের অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। গিটারের সুরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের গড়ে তুলতেও আগ্রহী ছিলেন তিনি। নবীন গিটারবাদকদের নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিলেন এই শিল্পী। বিজয়ীদের নিজের সংগ্রহের গিটার উপহার দেওয়ার ইচ্ছাও ছিল তাঁর। তবে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর আরেকটি স্বপ্ন ছিল গিটার স্কুল প্রতিষ্ঠা করা। আরও পড়ুন,এআই ভিডিও ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরীমনিসেখানে গিটারের পাশাপাশি অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র শেখার সুযোগ পেতেন তরুণেরা। সংগীতকে পেশা হিসেবে নেওয়ার জন্য নতুনদের দক্ষ করে তোলাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। আইয়ুব বাচ্চুর স্বপ্নের কনসার্টের পরিকল্পনাও ছিল বেশ বড়। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত সেই কনসার্টে মার্কিন গিটারবাদক স্টিভ ভাই, জো সাত্রানি ও কার্লোস সান্টানার মতো আন্তর্জাতিক শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানাতে চেয়েছিলেন তিনি। দেশীয় শিল্পীদের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা ছিল জেমস, বেজবাবা সুমন ও মানাম আহমেদকে। প্রায় ১৫ লাখ দর্শকের সামনে তিন ঘণ্টার সংগীত পরিবেশনার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। তবে সেই আয়োজন আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম আইয়ুব বাচ্চুর। সংগীতজীবনের শুরুতে বিভিন্ন ব্যান্ডে কাজ করার পর তিনি যুক্ত হন সোলসের সঙ্গে। পরে ১৯৯১ সালের ৫ এপ্রিল গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ড এলআরবি। ‘সেই তুমি’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘রুপালি গিটার’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’ ও ‘ফেরারি মন’-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁকে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। ২০২৬ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর ব্যবহৃত গিটার সংরক্ষণ, সংগীতজীবনের স্মারক নিয়ে সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা এবং গানগুলো ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইয়ুব বাচ্চু আজ নেই, কিন্তু তাঁর গান ও গিটারের সুর এখনো শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সংগীতের উত্তরাধিকার পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই হয়তো বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পেতে পারে তাঁর অপূর্ণ স্বপ্নগুলো।