শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
খলনায়ক থেকে জনপ্রিয় নায়ক যেভাবে জসীম হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি

খলনায়ক থেকে জনপ্রিয় নায়ক যেভাবে জসীম হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি

খলনায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরে নায়ক হয়ে জয় করেছিলেন কোটি দর্শকের হৃদয়। ঢাকাই চলচ্চিত্রের সেই কিংবদন্তি অভিনেতা জসীমের প্রয়াণের ২৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মাত্র ৪৮ বছর বয়সে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান চিত্রনায়ক জসীম। অল্প সময়ের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারেই তিনি খলনায়ক ও নায়ক—দুই ভূমিকাতেই নিজের অনন্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন। ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জের বক্সনগর গ্রামে জন্ম নেওয়া জসীমের আসল নাম আবদুল খায়ের জসীম উদ্দিন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২ নম্বর সেক্টরে অংশ নেন। ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও ১৯৭৩ সালে ‘রংবাজ’ ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমায় গব্বর সিং চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। তাঁর অ্যাকশন দৃশ্য ও অভিনয় দর্শকদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা তৈরি করেছিল। ঢাকাই চলচ্চিত্রে অ্যাকশন ধারার বিকাশেও জসীমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর হাত ধরে ‘ফাইটিং গ্রুপ’-এর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীকালে এই দলের অনেক সদস্য ফাইট ডিরেক্টর ও স্টান্টম্যান হিসেবে চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। খলনায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তার পর সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘সবুজ সাথী’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন জসীম। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আরও পড়ুন,অসুস্থতার কঠিন সময় পেরিয়ে নতুন করে ফিরছেন তানিয়া বৃষ্টিপর্দায় শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি হয়ে ওঠেন সাধারণ দর্শকের প্রিয় অ্যাকশন হিরো। শাবানা ও রোজিনার সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। ‘ভাইবোন’, ‘মেয়েরাও মানুষ’, ‘পরিবার’, ‘বুকের ধন’, ‘লালু মাস্তান’, ‘বারুদ’, ‘নবাবজাদা’সহ বহু সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি। প্রায় দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করা জসীমের জনপ্রিয়তা তাঁর মৃত্যুর ২৭ বছর পরও কমেনি। ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো তাঁর অভিনয়, নাচ, সংলাপ ও অ্যাকশন দৃশ্য নতুন প্রজন্মের দর্শকদের আকৃষ্ট করে। চলচ্চিত্রের পর্দার নায়ক হওয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাই জসীম শুধু একজন অভিনেতা নন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অ্যাকশন ধারার ইতিহাসে তিনি আজও স্মরণীয় এক নাম।