শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
জাতিসংঘের সভাপতির আইনি উপদেষ্টা জাইমা রহমান

জাতিসংঘের সভাপতির আইনি উপদেষ্টা জাইমা রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার বা আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পদে থেকে সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের বিধিবিধান বিষয়ে আইনি পরামর্শ দেবেন তিনি।জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী সভাপতির কার্যালয়ের লিগ্যাল অফিসার সাধারণ পরিষদের কেন্দ্রীয় আইন বিভাগের কর্মকর্তা নন। বরং তিনি সরাসরি সাধারণ পরিষদের সভাপতির আইনি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।কোনো রেজুলেশন কীভাবে উত্থাপন করা হবে কিংবা কোনো সদস্য রাষ্ট্র পয়েন্ট অব অর্ডার তুললে সভাপতির কী ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত—এসব বিষয়ে আইনি পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব থাকে এই কর্মকর্তার।এ ছাড়া কোনো সংশোধনী আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং কোনো প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন কি না তাও যাচাই করা হয়।আরও পড়ুন,গ্যারান্টি ক্লজসহ দেশের স্বার্থ নিশ্চিতের দাবিবিশেষ করে ফিলিস্তিন ও ইউক্রেনের মতো স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার সময় জাতিসংঘ সনদ এবং পূর্ববর্তী নজির অনুসারে সভাপতিকে পরামর্শ দেওয়াও এই দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।সভাপতির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২৯টি দেশের ছয়টি ভিন্ন ভাষাভাষী মোট ৪০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন। তাদের মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি রয়েছেন।জাইমা রহমানকে সভাপতির দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।তিনি যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট-ল সনদ লাভ করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত একজন অ্যাডভোকেট।সংশ্লিষ্টদের মতে আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করার মাধ্যমে জাইমা রহমানের পেশাগত অভিজ্ঞতার পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণ হতে হবে মসৃণ ও টেকসই অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ যেন দেশের উন্নয়নযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত না করে, বরং আরও শক্তিশালী করে—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ হতে হবে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল।মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘এলডিসি-জিআইএফ মেকানিজম ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড হাই-লেভেল ডায়ালগ’-এ বক্তব্য দেন ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।তিনি বলেন, উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলো এখনো কাঠামোগত নানা প্রতিবন্ধকতা এবং সীমিত উৎপাদন সক্ষমতার মুখোমুখি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতি।দেশীয় বিভিন্ন অভিঘাতও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।এলডিসি থেকে উত্তরণ একটি দেশের উন্নয়নযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত না করে বরং আরও শক্তিশালী করতে হবে।আরও পড়ুন,অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে”ড. তিতুমীরের মতে, শিল্পায়ন, সমন্বিত উদ্যোগ, জ্বালানি রূপান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণকে টেকসই করা সম্ভব। এজন্য উত্তরণশীল দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি বিশেষ করে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান অর্থ উপদেষ্টা।তিনি বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় এলডিসিগুলোতে প্রযুক্তি হস্তান্তর এখনো অপ্রতুল।ড. তিতুমীর আশা প্রকাশ করেন, এলডিসি গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ফ্যাসিলিটেশন বা এলডিসি-জিআইএফ উদ্যোগ প্রযুক্তি হস্তান্তর ও শিল্পে এর প্রয়োগ দ্রুততর করবে। একই সঙ্গে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর এবং টেকসই উত্তরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ।জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনায় এলডিসি উত্তরণকে শুধু একটি মর্যাদাগত পরিবর্তন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এলডিসি উত্তরণ হতে হবে মসৃণ ও টেকসই অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর