ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও দেশ গঠনে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, আলেমসমাজ বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আছে। বৃহত্তর স্বার্থে এই বিভক্তি কাটিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ন্যাশনাল ওলামা সামিটে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। আলেমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি পিঁপড়াও একা হাঁটে না। এমনকি জঙ্গলের মধ্যে কোনো হাতিও একা হাঁটে না। অথচ আলেমসমাজ দশদিকে দশটি গ্রুপে বিভক্ত। তাঁর মতে, বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জন এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলেমদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ঐক্যই শক্তিতে পরিণত হবে। ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আগামী দিনেও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আলেমসমাজের সাংগঠনিক ভিত্তি নিয়েও বক্তব্য দেন সাবেক এই ধর্ম উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কাদামাটির ওপর দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করা যায় না।
আরও পড়ুন,ন্যাশনাল ওলামা সামিটে নতুন কমিটি ঘোষণা
তাই কোনো বড় লক্ষ্য অর্জনের আগে পায়ের নিচের মাটি শক্ত আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ওয়াজ মাহফিলে লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হলেও তাঁদের সবাইকে ভোটার হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তাঁর মতে, জনসমাগমের সঙ্গে নির্বাচনী সমর্থনের সরাসরি মিল ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বক্তব্যে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভোটের হিসাবও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিগত নির্বাচনে বিএনপি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল মিলিয়ে ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশ। তিনি বলেন, সব ইসলামী দল এক হলেও ক্ষমতায় যাওয়ার মতো অবস্থান তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিয়ে ইসলামী দলগুলোর ভোটের হার ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সাধারণ জনগণের সঙ্গে আলেমদের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল রেখে বড় বড় বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন। আগামী ২০৩১ সালে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা। ন্যাশনাল ওলামা সামিটে তাঁর বক্তব্যে আলেমদের পারস্পরিক ঐক্য, সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
মতামত