বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে হামলার পর ককপিটে ছুটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেন দুই পাইলট

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে হামলার পর ককপিটে ছুটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেন দুই পাইলট

ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে সহকারী পাইলটের হামলার পর ককপিটে ছুটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া দুই অতিরিক্ত পাইলটকে এখন ওই ফ্লাইটের অন্যতম নায়ক হিসেবে দেখছেন যাত্রীরা। তবে ঘটনার তিন দিন পরও তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি ফ্লাইদুবাই। উড়োজাহাজটিতে ১৮২ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে সামনের দিকে দ্বিতীয় সারিতে বসা ড্যানিয়েল শ্লিখটার পুরো ঘটনার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। শ্লিখটার জানান, ওই ফ্লাইটে নিয়মিত দুই পাইলটের পাশাপাশি আরও দুই পাইলট ছিলেন। তাদের তেল আবিব থেকে দুবাইয়ে উড়োজাহাজটি ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। এ ধরনের ব্যবস্থাকে বিমান চলাচলের ভাষায় ডেডহেডিং বলা হয়। ফ্লাইট চলার সময় ককপিটের ভেতর থেকে চিৎকার ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি টের পেয়ে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা দেখতে পান, সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা করছেন এবং ককপিটের ভেতরে রক্ত ছড়িয়ে পড়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন কোনোভাবে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর এক যাত্রী সহকারী পাইলটকে ধরে ককপিট থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেন। অন্য যাত্রীরাও তাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময় অতিরিক্ত একজন পাইলট যাত্রীদের ওপর দিয়ে প্রায় লাফিয়ে ককপিটে ঢুকে পড়েন এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। পরে দ্বিতীয় অতিরিক্ত পাইলটও ককপিটে যোগ দেন। তারা দরজা বন্ধ করে দেন। শ্লিখটার বলেন, প্রথম যে পাইলট ককপিটে ঢুকেছিলেন, তিনি অত্যন্ত দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন। আরও পড়ুন,৬০তম স্বাধীনতা দিবসে ২৩ হাতি শিকারের সিদ্ধান্তে সমালোচনাতার ভাষায়, তিনি নায়কের মতো আচরণ করেছেন এবং এমনভাবে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন যেন পুরো পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হবে তা তিনি জানতেন। তবে ককপিটের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা আর জানতে পারেননি যাত্রীরা। এদিকে হামলার পর উড়োজাহাজটি তীব্রভাবে নিচের দিকে নেমে যায়। এতে রাডারের একটি অংশও ছিঁড়ে যায় বলে জানান শ্লিখটার। উড়োজাহাজটিকে স্থিতিশীল করতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। তার ধারণা, এই প্রক্রিয়ায় ১০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লেগে থাকতে পারে। পাইলটরা দ্রুত অবতরণের জন্য নিরাপদ জায়গা খুঁজতে থাকেন এবং উড়োজাহাজ থেকে মেইডে কল করা হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরও যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। কারণ, ককপিটে থাকা অতিরিক্ত দুই পাইলটের পরিচয় তারা জানতেন না। শ্লিখটার জানান, তখন তার মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এমনকি ওই দুই ব্যক্তি উড়োজাহাজটি ছিনতাই করে ইরান বা অন্য কোনো জায়গায় নিয়ে যেতে পারেন এমন চিন্তাও তার মাথায় এসেছিল। কারণ, উড়োজাহাজটি তখন ইরান থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না। প্রায় ৪৫ মিনিট পর পাইলটরা ঘোষণা দেন, তারা সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। তখনই শ্লিখটার ওই দুই পাইলটের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

অক্টোবরে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি আগামী অক্টোবরেই হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।মন্ত্রী বলেন, এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং অক্টোবরেই চুক্তি সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজ পাওয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকায় বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করছে সরকার।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি উড়োজাহাজের কার্যক্ষমতা নিয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক বছরে বহরের পুরোনো উড়োজাহাজগুলো প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন দেখা দেবে। এ কারণে বহর বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। আগের ১৪টি বোয়িংয়ের চুক্তির সঙ্গে নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ায় বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তিবদ্ধ উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।আড়ও পড়ুন,চাঁদাবাজি ঠেকাতে মোড়ে মোড়ে দানবাক্স চান হাসনাত ও পাটওয়ারীচুক্তি অনুযায়ী বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজগুলো একসঙ্গে দেশে আসবে না। প্রথম উড়োজাহাজ ২০৩১ সালে আসার কথা রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে। নতুন উড়োজাহাজ হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বহরের সক্ষমতা বাড়াতে লিজের মাধ্যমেও অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, বহরে উড়োজাহাজ বাড়ানো গেলে বর্তমানে পরিচালিত ফ্লাইটের পাশাপাশি আরও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন গন্তব্যে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসের উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।এ ছাড়া নিউইয়র্কে পুনরায় ফ্লাইট চালুর চেষ্টা চলছে। সিডনি রুট চালুর পরিকল্পনার পাশাপাশি জাপানে বর্তমানে চালু থাকা ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এয়ারবাস কেনার ক্ষেত্রে কোনো চাপ বা শর্ত রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কোনো চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। দেশের প্রয়োজন, ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো এবং এভিয়েশন খাতের স্বার্থ বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

অক্টোবরে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি