শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়াল এনবিআর

১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়াল এনবিআর

জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর। নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর এক আদেশে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর। আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ভ্যাট রিটার্ন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির পর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করেনি। এ অবস্থায় মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা ৩-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে যেসব প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন এখনো দাখিল করেনি তাদের জন্য সময়সীমা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।আড়ও পড়ুন,মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুতের নতুন দাম নির্ধারণ করল বিইআরসি এনবিআর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে জুলাই আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন অবশ্যই ইভ্যাট সিস্টেমে দাখিল করতে হবে। অর্থাৎ তিন কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন একই সময়ের মধ্যে দাখিল করার সুযোগ পাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এনবিআরের আদেশে আরও বলা হয়েছে, বর্ধিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না। জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এনবিআরের

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর। কর প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, করদাতা সেবার মানোন্নয়ন এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করে এই লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এবার রাজস্ব কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে ‘থ্রি-আর’ বা তিনটি নীতি গ্রহণ করেছে এনবিআর। এগুলো হলো—রিকভারি বা পুনরুদ্ধার, রেস্টোরেশন বা পুনর্বহাল এবং রিকনস্ট্রাকশন বা পুনর্গঠন।রিকভারি কৌশলের আওতায় রাজস্ব আদায়ে গড়ে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রেস্টোরেশনের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানো এবং ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আর রিকনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়িয়ে স্বেচ্ছায় কর পরিপালন নিশ্চিত করতে চায় এনবিআর।চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর অনুবিভাগে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি, ভ্যাট অনুবিভাগে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি এবং কাস্টমস অনুবিভাগে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।আড়ও পড়ুন,আয়কর রিটার্নে ৫ শতাংশ প্রণোদনা পেতে হাতে আর চারদিনআয়কর খাতে কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার, উৎসে করের আওতা সম্প্রসারণ, কর পরিপালন জোরদার এবং করসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ খাতে নিয়মিত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর ফাঁকি থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি এবং বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ থেকে আরও কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের প্রক্ষেপণ রয়েছে।ভ্যাট খাতেও প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি এডিপি বাস্তবায়ন, তামাকজাত পণ্য, বকেয়া রাজস্ব আদায় এবং ভ্যাট নিবন্ধনের আওতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অবৈধ সিগারেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নজরদারি এবং বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পরিকল্পনাও রয়েছে।অন্যদিকে কাস্টমস খাতে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বকেয়া রাজস্ব আদায়, গোয়েন্দা তৎপরতা, পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা, নিলাম, আমদানিপণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্য নির্ধারণ এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধের মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।এনবিআরের কর্মকর্তাদের আশা, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনে সমন্বিত পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এনবিআরের