ই-টিন (e-TIN) থাকা সত্ত্বেও আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর আইন, ২০২৩ ও এনবিআরের নিয়ম অনুযায়ী সবার ক্ষেত্রে একই অঙ্কের বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপের কোনো বিধান নেই। মূলত বিভিন্ন প্রয়োজনে ই-টিন নেওয়ার পর পরবর্তীতে আয় করমুক্ত সীমার নিচে নেমে গেলেও নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির করদাতার ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকে। আইন অনুযায়ী, বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে, আগের বছরগুলোতে করযোগ্য আয় থাকলে, কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, অংশীদার, সরকারি চাকরিজীবী এবং সুনির্দিষ্ট কিছু সেবা পেতে ই-টিনধারীদের রিটার্ন দাখিল করতে হয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৬(১) অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে উপকর কমিশনার জরিমানা করতে পারেন। তবে এই জরিমানার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়।
আরও পড়ুন,২০২৭ সালজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপের শঙ্কা
আগে আয় নিরূপণ হয়নি এমন নতুন করদাতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা হতে পারে ৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে, পূর্বে আয় নিরূপিত হয়ে থাকলে সর্বশেষ করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকা এর মধ্যে যেটি বেশি, সেটিই সর্বোচ্চ জরিমানার সীমা। পাশাপাশি ন্যূনতম জরিমানা ১ হাজার টাকা হতে পারে এবং ব্যর্থতা চলমান থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। সাধারণত স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর নির্ধারিত থাকে। যাদের শুধু ই-টিন আছে কিন্তু কোনো আয় নেই বা করযোগ্য নয়, তারা প্রথমে যাচাই করে দেখবেন তাদের জন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না। ভবিষ্যতে আর রিটার্ন দেওয়ার প্রয়োজন না হলে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে। এছাড়া এনবিআরের অফিশিয়াল ই-রিটার্ন পোর্টালের (etaxnbr.gov.bd) মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে অতীতে রিটার্ন জমার অবস্থা যাচাই করা সম্ভব। অপ্রমাণিত তথ্যে আতঙ্কিত না হয়ে করদাতাদের নিজ নিজ কর-সংক্রান্ত অবস্থা যাচাই করে আইনসম্মত উপায়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মতামত