শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ভারতে বাংলাদেশি পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক

ভারতে বাংলাদেশি পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক

বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাটের সুতা, টুইন, বস্তাসহ বিভিন্ন পাটপণ্যের ওপর টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।ভরতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার ভিত্তিতে শুল্ক বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা তুলনামূলক কম দামে পাটপণ্য সরবরাহ করায় দেশটির স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতির মুখে পড়ছে।নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশের ৩৬টি পাট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ওপর বিভিন্ন হারে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে শুল্ক টনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫৯ ডলার থেকে শুরু হয়েছে। আর তালিকার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠান থেকে পাটের সুতা বা টুইন আমদানি করলে ভারতীয় আমদানিকারকদের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক দিতে হবেএ ছাড়া বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তা রপ্তানির ওপর টনপ্রতি ১২০ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ক্ষেত্রে শুল্ক রাখা হয়েছে সবচেয়ে কম—টনপ্রতি ৫৯ ডলার।তবে নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান সব ধরনের পাটপণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।আড়ও পড়ুন,বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিন বাড়ল তেলের দামভারতের ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পর গত বছরের জুনে বাংলাদেশ ও নেপালের পাটকলগুলোর ওপর পর্যালোচনা শুরু করে ডিজিটিআর। তদন্তে বাংলাদেশের ৫৪টি মিলের কাছে তথ্য চাওয়া হলে ৩৮টি মিল তথ্য সরবরাহ করে।ডিজিটিআরের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে ১৩ শতাংশ। তবে বাংলাদেশি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে পাটপণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমে আসে।বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক ভারতের সিদ্ধান্তকে একতরফা ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে পাটের সুতা, টুইন ও বস্তা রপ্তানিতে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় কম।তবে তাঁর মতে, ভারতের বাজারে রপ্তানি কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক আঁশভিত্তিক পণ্যের চাহিদা থাকায় সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব নাও পড়তে পারে।

মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে সিন্ডিকেট বাতিলের দাবি এবি পার্টির

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানিতে কথিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বাতিল করে সব বৈধ ও লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি বা এবি পার্টি।একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের বাইরে শ্রমিকদের কাছ থেকে কোনো অর্থ না নেওয়া এবং বিদেশ যেতে শ্রমিকদের খরচ কমানোর দাবি জানিয়েছে দলটি।সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবীর মিলনায়তনে ‘মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি: সিন্ডিকেট সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনা সভায় এসব দাবি উঠে আসে।সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে লাইসেন্স দেওয়ার আগে সরকার বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে। কিন্তু লাইসেন্স দেওয়ার পর যদি সেই প্রতিষ্ঠানগুলো কাজের সুযোগ না পায় তাহলে লাইসেন্স দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়।তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সব লাইসেন্সধারী এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের বাইরে শ্রমিকদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া যাবে না।আরও  পড়ুন, ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী আসিফ ও নাসীরুদ্দীনআইসিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু আহমেদ বলেন, নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির মধ্যে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সীমাবদ্ধ না রেখে তা উন্মুক্ত করা হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে শ্রমিকদের বিদেশ যাওয়ার খরচও কমবে।এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অভিযোগ করেন, প্রবাসী শ্রমিকদের অনেক ক্ষেত্রে মানুষ হিসেবে না দেখে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের অধিকার নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনও মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তোলেন।বক্তারা বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করে স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক এবং কম খরচের অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে সিন্ডিকেট বাতিলের দাবি এবি পার্টির

প্রতিবাদ থেকেই এবি পার্টির উত্থান: মঈন খান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, প্রতিবাদ থেকেই আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) উত্থান হয়েছে এবং এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও দেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এবি পার্টির অগ্রযাত্রা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা হয়ে থাকবে। শনিবার (২ মে) এবি পার্টির ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মঈন খান বলেন, যখনই গণতন্ত্রের পথ থেকে দেশ বিচ্যুত হয়েছে, তখনই আন্দোলন-প্রতিবাদ হয়েছে। ১৯৭১ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জনগণ বারবার ভুল শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে দেশকে সংশোধনের পথে নিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেন, জনগণ কখনো ভুল করেনি, বরং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভুলই আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠানে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেশের মানুষ এখন আবেগনির্ভর ও প্রতিশ্রুতিনির্ভর রাজনীতি চায় না। তারা বাস্তবভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতি প্রত্যাশা করে। তার দাবি, এবি পার্টি সেই বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই সাম্প্রতিক আন্দোলনের বড় অর্জন।  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামনুল হক বলেন, জুলাই আন্দোলন রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের একটি বড় আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়া বলেন, এবি পার্টি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ছাত্রশক্তি গঠনের আগেও পাশে ছিল। তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত ত্যাগের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বর্তমান সময় গণতন্ত্র পুনর্গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, সাবেক আইন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, নাগরিক ঐক্যের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ্ কায়সার, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, ন্যাপের সভাপতি জেবালুর রহমান গণি, শহীদ নাফিসা মারওয়ার বাবা আবুল হোসেন, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও শহীদ নাঈমার আম্মা আইনুন্নাহার।  

প্রতিবাদ থেকেই এবি পার্টির উত্থান: মঈন খান