ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হকের মৃত্যুর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মোস্তাকিম নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবক। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ শ্রী উদা চন্দ্র নামে আরেক বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ।শনিবার ভোরে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের চান্দেরহাট বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপির কাছাকাছি ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বসুদেবপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে। আর মোস্তাকিম উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে। একই গ্রামের মনশা চন্দ্র রায়ের ছেলে শ্রী উদা চন্দ্র গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ও শনিবার ভোরে একদল বাংলাদেশি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে আসাদুল হক মোস্তাকিম ও শ্রী উদা চন্দ্র গুলিবিদ্ধ হন।পরে বিএসএফ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে মারা যান আসাদুল হক।
আড়ও পড়ুন,চার দিন অন্ধকারে ২২ হাজার গ্রাহক
পরে রাতে মৃত্যু হয় মোস্তাকিমের।বর্তমানে দুই বাংলাদেশির মরদেহ ভারতের ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আর গুলিবিদ্ধ শ্রী উদা চন্দ্র বিএসএফের হেফাজতে রয়েছেন।দিনাজপুর ৪২ বিজিবি জানিয়েছে, নিহত আসাদুল হক চিহ্নিত চোরাকারবারি ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।ঘটনার বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাত হোসেন সীমান্তে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিএসএফের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মতামত