বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, আদর্শিক নেতৃত্ব গঠন এবং শ্রমিক আন্দোলনকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার শহীদ মুন্সি ফজলুর রহমান অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত দিনব্যাপী নেতৃত্ব উন্নয়ন শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে থানা ও সেক্টর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দূরদর্শিতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যাগুলো বুঝে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। আরও পড়ুন,চিফ হুইপের বক্তব্যের নিন্দা জানাল জামায়াততিনি আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলনকে আদর্শিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে শ্রমিকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তাঁদের নৈতিক ও আদর্শিক উন্নয়নেও কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। শিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে আদর্শের প্রচার করতে হলে দায়িত্বশীলদের নিজেদের জীবন ও কর্মে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শ্রমিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁদের সমস্যা, অধিকার ও প্রত্যাশা জানতে হবে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিক নেতৃত্বকে সৎ, দক্ষ, যোগ্য, ত্যাগী ও শ্রমিকবান্ধব হতে হবে। অন্যায়-অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে চট্টগ্রামের শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল শ্রমিক আন্দোলন প্রয়োজন। ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ শিবিরে জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী আয়োজনে মহানগর, থানা, সেক্টর, মহিলা বিভাগ ও ট্রেড ইউনিয়নের শ্রমিক নেতারা প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন।

আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা

ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও দেশ গঠনে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, আলেমসমাজ বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আছে। বৃহত্তর স্বার্থে এই বিভক্তি কাটিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ন্যাশনাল ওলামা সামিটে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। আলেমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি পিঁপড়াও একা হাঁটে না। এমনকি জঙ্গলের মধ্যে কোনো হাতিও একা হাঁটে না। অথচ আলেমসমাজ দশদিকে দশটি গ্রুপে বিভক্ত। তাঁর মতে, বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জন এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আলেমদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ঐক্যই শক্তিতে পরিণত হবে। ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ আগামী দিনেও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আলেমসমাজের সাংগঠনিক ভিত্তি নিয়েও বক্তব্য দেন সাবেক এই ধর্ম উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কাদামাটির ওপর দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করা যায় না। আরও পড়ুন,ন্যাশনাল ওলামা সামিটে নতুন কমিটি ঘোষণাতাই কোনো বড় লক্ষ্য অর্জনের আগে পায়ের নিচের মাটি শক্ত আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ওয়াজ মাহফিলে লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত হলেও তাঁদের সবাইকে ভোটার হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তাঁর মতে, জনসমাগমের সঙ্গে নির্বাচনী সমর্থনের সরাসরি মিল ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বক্তব্যে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভোটের হিসাবও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিগত নির্বাচনে বিএনপি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল মিলিয়ে ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশ। তিনি বলেন, সব ইসলামী দল এক হলেও ক্ষমতায় যাওয়ার মতো অবস্থান তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিয়ে ইসলামী দলগুলোর ভোটের হার ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সাধারণ জনগণের সঙ্গে আলেমদের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল রেখে বড় বড় বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন। আগামী ২০৩১ সালে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা। ন্যাশনাল ওলামা সামিটে তাঁর বক্তব্যে আলেমদের পারস্পরিক ঐক্য, সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানালেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা

সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের সমস্যা কমবে কাদের গনি

সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলাই সাংবাদিকতার মূল মন্ত্র। সংবাদপত্র দেশের জনগণ ছাড়া কারও কাছে দায়বদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিক আড্ডায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশি সাংবাদিক এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।কাদের গনি চৌধুরী বলেন সাংবাদিকতার পথ কখনো সহজ বা মসৃণ ছিল না। দাসত্বের সাংবাদিকতা মানুষ গ্রহণ করে না। তার ভাষ্য গত ১৭ বছরে অনেক সাংবাদিককে দাসত্বের সাংবাদিকতা করতে দেখা গেছে এবং এর কারণে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।তিনি বলেন বর্তমানে গণমাধ্যমে যে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে তা অব্যাহত থাকলে সাংবাদিকরা আরও বেশি সত্য তুলে ধরতে পারবেন। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। যা ইচ্ছা তা লিখলেই সাংবাদিকতা হয় না এবং মুখে যা আসে তা বলাই বাকস্বাধীনতা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আড়ও পড়ুন,পাসপোর্ট হারালে অনলাইনে রিপোর্টের পাশাপাশি করতে হবে জিডিগণমাধ্যমের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার প্রসঙ্গে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবর্তে ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়েই অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেও মানুষকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এসব বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন অপসাংবাদিকতা ও হয়রানি রোধে আইন প্রয়োগ করতে হবে। একইসঙ্গে আইন যেন অপব্যবহার না হয় সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।তিনি ‘নো ওয়েজবোর্ড নো মিডিয়া’ নীতিমালা কার্যকরের দাবি জানান। তার মতে ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেক ভূঁইফোড় গণমাধ্যম গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও ওয়েজবোর্ড বাধ্যতামূলক করা হলে অপসাংবাদিকতা কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবিও জানান বিএফইউজে মহাসচিব। তিনি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি তুলে বলেন কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তা এখনো যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি।সাংবাদিক সমাজের বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। কাদের গনি চৌধুরী বলেন সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনের সুযোগ নিয়ে সরকার ও মালিকপক্ষ সুবিধা নেয়। সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।

সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের সমস্যা কমবে কাদের গনি