শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের সমস্যা কমবে কাদের গনি

সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের সমস্যা কমবে কাদের গনি

সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলাই সাংবাদিকতার মূল মন্ত্র। সংবাদপত্র দেশের জনগণ ছাড়া কারও কাছে দায়বদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিক আড্ডায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশি সাংবাদিক এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।কাদের গনি চৌধুরী বলেন সাংবাদিকতার পথ কখনো সহজ বা মসৃণ ছিল না। দাসত্বের সাংবাদিকতা মানুষ গ্রহণ করে না। তার ভাষ্য গত ১৭ বছরে অনেক সাংবাদিককে দাসত্বের সাংবাদিকতা করতে দেখা গেছে এবং এর কারণে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।তিনি বলেন বর্তমানে গণমাধ্যমে যে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে তা অব্যাহত থাকলে সাংবাদিকরা আরও বেশি সত্য তুলে ধরতে পারবেন। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। যা ইচ্ছা তা লিখলেই সাংবাদিকতা হয় না এবং মুখে যা আসে তা বলাই বাকস্বাধীনতা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আড়ও পড়ুন,পাসপোর্ট হারালে অনলাইনে রিপোর্টের পাশাপাশি করতে হবে জিডিগণমাধ্যমের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার প্রসঙ্গে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবর্তে ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়েই অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেও মানুষকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এসব বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন অপসাংবাদিকতা ও হয়রানি রোধে আইন প্রয়োগ করতে হবে। একইসঙ্গে আইন যেন অপব্যবহার না হয় সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।তিনি ‘নো ওয়েজবোর্ড নো মিডিয়া’ নীতিমালা কার্যকরের দাবি জানান। তার মতে ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেক ভূঁইফোড় গণমাধ্যম গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও ওয়েজবোর্ড বাধ্যতামূলক করা হলে অপসাংবাদিকতা কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবিও জানান বিএফইউজে মহাসচিব। তিনি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি তুলে বলেন কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তা এখনো যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি।সাংবাদিক সমাজের বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। কাদের গনি চৌধুরী বলেন সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনের সুযোগ নিয়ে সরকার ও মালিকপক্ষ সুবিধা নেয়। সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।