‘মারো না কেন, মারো’—সাদ্দামকে ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ: চিফ প্রসিকিউটর
আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলি চালানোর জন্য নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে উসকানি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের—এমনটাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।ভয়েসওভার:আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর সামনে এলো ওবায়দুল কাদের ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের কথোপকথনের তথ্য।চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনকারীদের দমনে ছাত্রলীগকে সরাসরি উসকানি দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথোপকথনের সময় কাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো।’শুধু তাই নয়, আন্দোলনকারীদের দেখা মাত্রই গুলি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর।আমিনুল ইসলাম বলেন,আড়ও পড়ুন,মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, বন্ধ থাকবে ধরা-বেচাকেনা ১১ জুলাই সাদ্দাম হোসেনকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর কয়েকদিন পর ১৬ জুলাই ওয়াসিম, আবু সাঈদসহ কয়েকজন নিহত হন।চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়। এ সময় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন বলেও জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগই যথেষ্ট—এমন কথাও বলেছিলেন ওবায়দুল কাদের।চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই বড় ধরনের হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।এর আগে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।রায়ের পর সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিংয়ে মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।