বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে দুই তরুণকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই তরুণ হলেন ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাকান্দি মহল্লার মোহন বিশ্বাস ও তায়েব মাতুব্বর। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আদালত সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।আরও পড়ুন,হাঁসের খামারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ অসুস্থ আরও দুই শতাধিক একই মামলায় অপহরণের দায়ে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুই ধারায় দেওয়া সাজা একইসঙ্গে ভোগ করবেন আসামিরা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৮ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার একটি গ্রামের বাড়ির পাশ থেকে ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে মুখে রুমাল চেপে কালো কাচের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় মোহন ও তায়েব। পরে ভাঙ্গা গোলচত্বর ও মুনসুরাবাদ এলাকার মহাসড়ক দিয়ে মাইক্রোবাসটি চলার সময় কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে যায় তারা। ঘটনার পর কিশোরী পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে পরদিন ৯ আগস্ট তার বাবা ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন। মামলায় মোহন ও তায়েবকে আসামি করা হয়।পরে মামলাটি তদন্ত করেন ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক তদন্ত বিকাশ মণ্ডল। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।

রামেক হাসপাতালে দালাল চক্রের সাত সদস্যের কারাদণ্ড

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের প্রতারণার অভিযোগে দালাল চক্রের সাত সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছেন।বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এসআরবি-৫। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।এসআরবি-৫-এর কর্মকর্তা মেজর কবির জানান একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো।আড়ও পড়ুন,ফেনীতে ভারতীয় পণ্যসহ কাভার্ড ভ্যান জব্দএমন অভিযোগের ভিত্তিতে রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দালাল চক্রের সাত সদস্যকে আটক করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সরকার বলেন উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে আসেন। তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে একটি দালাল চক্র প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায় করছিল।তিনি জানান অভিযোগের সত্যতা ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় আটক সাতজনকে নির্ধারিত দণ্ডবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের হয়রানি এবং প্রতারণা বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রামেক হাসপাতালে দালাল চক্রের সাত সদস্যের কারাদণ্ড