ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে দুই তরুণকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই তরুণ হলেন ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাকান্দি মহল্লার মোহন বিশ্বাস ও তায়েব মাতুব্বর। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আদালত সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন,হাঁসের খামারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ অসুস্থ আরও দুই শতাধিক
একই মামলায় অপহরণের দায়ে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুই ধারায় দেওয়া সাজা একইসঙ্গে ভোগ করবেন আসামিরা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৮ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার একটি গ্রামের বাড়ির পাশ থেকে ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে মুখে রুমাল চেপে কালো কাচের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় মোহন ও তায়েব। পরে ভাঙ্গা গোলচত্বর ও মুনসুরাবাদ এলাকার মহাসড়ক দিয়ে মাইক্রোবাসটি চলার সময় কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে যায় তারা। ঘটনার পর কিশোরী পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে পরদিন ৯ আগস্ট তার বাবা ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন। মামলায় মোহন ও তায়েবকে আসামি করা হয়।পরে মামলাটি তদন্ত করেন ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক তদন্ত বিকাশ মণ্ডল। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।
মতামত