শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের জন্য সুখবর

কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের জন্য সুখবর

পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য সুখবর। ঢাকা থেকে দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারে যাতায়াত আরও সহজ করতে এই রুটে যুক্ত হচ্ছে জনপ্রিয় ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে নতুন এই সেবা চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন এই ব্যবস্থায় নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তন না করেই কক্সবাজারে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। তবে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের মতো বিরতিহীনভাবে চলবে না মহানগর এক্সপ্রেস। যাত্রাপথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামবে ট্রেনটি। বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন সূচি অনুযায়ী ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। আরোও পড়ুন,বদলি বাণিজ্য বন্ধে লটারি, গণপূর্তে স্বচ্ছতা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে সরকারফেরার পথে ৭২১ নম্বর ট্রেনটি সকাল ৮টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে রাজধানীতে পৌঁছাবে। নতুন সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। তবে ট্রেনটি আর চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনে থামবে না। যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে ট্রেনটিতে থাকছে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা বা এসি চেয়ার, এসি সিট এবং এসি বার্থের ব্যবস্থা। ফলে যাত্রীরা নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী আসন বেছে নিতে পারবেন। বর্তমানে ঢাকা–কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস চলাচল করছে। এর সঙ্গে মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের জন্য রেলপথে যাতায়াতের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। বিয়ের দাবিতে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে অনশন করছেন ওই তরুণী। তবে ওই তরুণীকে পাত্তা দিচ্ছে না প্রেমিকের পরিবার। এতে অনেকটা মানবতার জীবনযাপন করছেন ওই তরুণী। বৃহস্পতিবার উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গিয়ে ওই তরুণীকে অনশনে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ওই বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। ওই তরুণীর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খনকার বাড়ির মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। তার দাবি, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর তিনি বিয়ের বিষয়টি তুললে আবু সাইদ তাকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। পরে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গেলে আবু সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালেই আবু সাইদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকেই ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকে ফিরব না। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যুবকের পরিবার সহযোগিতা করেনি। পরে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি করেন তারা। শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি; কিন্তু ছেলেটি বৈঠক থেকে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে রাজি নয়। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে তরুণীর অনশন