কূটনীতিকদের সম্মানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ
বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে ‘আ ডিপ্লোম্যাটিক ইভনিং-২০২৬’ শীর্ষক নৈশভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দলটির ইতিহাস, ভিশন, মিশন, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে দলের দৃষ্টিভঙ্গি কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ, ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি, সিঙ্গাপুর দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং এবং ইরাকের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ওয়িসাম হুসাইন আলী আল-ইথাওয়ি। এ ছাড়া মালদ্বীপের ডেপুটি হাইকমিশনার আলী শাহ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফার্স্ট কাউন্সেলর কামিলা পার্টিকা এবং মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা অ্যালিস কেনেডিসহ রাশিয়া, জাপান, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা ও ব্রুনেই দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক নৈতিক দর্শন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। মামুনুল হক বলেন, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নীতি ইসলামি মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কোনো জনগোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের প্রতি দলটির বিদ্বেষ নেই। আরও পড়ুন,এনসিপির পাঁচ নেতাকে উপদেষ্টা রেখে জুলাই ওয়ারিয়র্স অ্যালায়েন্সের কমিটিইসলামি দৃষ্টিকোণ ও মূল্যবোধকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে দলটি। পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্য বাণিজ্য ও মানবিক সংলাপের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। মামুনুল হক আরও বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো নির্দিষ্ট শক্তি বা বলয়ের পক্ষপাতী নয়। জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে দলটি বিশ্বাসী। সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় সনদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নারীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায়ও দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বাধীন বিচার বিভাগ ও মুক্ত গণমাধ্যমকে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জবাবদিহিমূলক সরকারের অপরিহার্য পূর্বশর্ত বলেও উল্লেখ করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।