রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ইরান-আমিরাতের একসঙ্গে যুদ্ধবিরতির আহ্বান

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ইরান-আমিরাতের একসঙ্গে যুদ্ধবিরতির আহ্বান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে লাগাম টানতে একসঙ্গে কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরস্পরবিরোধী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও ব্রিকস জোটের যৌথ ঘোষণাপত্রে সমর্থন জানিয়েছে দুই দেশ। শনিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনে এই ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। চলমান সংঘাত শুরুর পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হিসেবে দেখা হচ্ছে।আবুধাবির সরকারি মিডিয়ার এক পোস্টে জানানো হয় দুই নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি উত্তেজনা প্রশমন স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়েও কথা হয়েছে। তবে বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানানো হয়নি।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে ব্রিকসের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যে মতপার্থক্য রয়েছে তা দূর করার প্রত্যাশাও ছিল এই সম্মেলনে।আড়ও পড়ুন,সৌদির শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিযৌথ ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকস। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে একতরফা যুদ্ধেরও নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিকস নেতারা।গাজা যুদ্ধ নিয়েও অবস্থান জানিয়েছে জোটটি। গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো নীতির অবসানের আহ্বান জানানো হয়েছে।ব্রিকসের ঘোষণায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জোটটি।এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জনে কাজ করা প্রয়োজন।বিশ্লেষকদের মতে ব্রিকসের এই যৌথ অবস্থান হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে ভিন্ন অবস্থানে থাকা দেশগুলোকে একই কূটনৈতিক টেবিলে আনার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।