বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস
Topic Ads 1
১১ মাসের সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় তৌফিকের স্ত্রী

১১ মাসের সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় তৌফিকের স্ত্রী

গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হোসেনের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। স্বামীকে হারিয়ে ১১ মাসের শিশুসন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা তৌফিকের স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও বর্তমান দুরবস্থার খোঁজ নিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান জামায়াত আমির। পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান জানান, তৌফিক ও তার বড় ভাই দুজনই এতিম। দরিদ্র পরিবারে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা দুই ভাই একই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। শ্রমিক আন্দোলনের সময় বড় ভাইয়ের চোখের সামনেই ছোট ভাই তৌফিকের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পরও তৌফিক সংজ্ঞাহীন থাকায় শেষবারের মতো তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাননি বড় ভাই। তৌফিকের পরিবারের আর্থিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, অভাবের কারণে তৌফিকের স্ত্রীও আগে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তবে সন্তান জন্মের পর তার দেখাশোনার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। বর্তমানে শিশুটির বয়স মাত্র ১১ মাস। স্বামীকে হারিয়ে সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার। পরিবারটির নিজস্ব কোনো বসতভিটাও নেই। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তাদের নামে মাথা গোঁজার মতো এক ইঞ্চি জমিও নেই। আরও পড়ুন,পোশাকশ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের অভিযোগবর্তমানে স্বামীর চাচার ছোট একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন তৌফিকের স্ত্রী ও সন্তান। তৌফিকের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের বিচার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে সংশয় থাকলেও তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানাবেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গেলে অসহায় স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবেন। পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ইনশাআল্লাহ তারা এই পরিবারের পাশে থাকবেন। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে অসহায় পরিবারটির জন্য সহায়তা কামনা করেন তিনি। ফোনালাপের সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের গাইবান্ধা জেলা আমির ও সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, সাবেক জেলা আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমিরসহ স্থানীয় নেতারা। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং স্বজনদের সান্ত্বনা জানান।