মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
ক্রাইম এক্সপ্রেস

বেলকুচিতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে অভিযান


ক্রাইম এক্সপ্রেস
ক্রাইম এক্সপ্রেস

বেলকুচিতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে অভিযান
বেলকুচিতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে অভিযান

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে স্থানীয় পরিবারগুলোর দুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চারটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবেশদূষণ ও নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে কারখানাগুলোকে মোট দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের তামাই গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরিন জাহান। সোমবার সন্ধ্যার পর অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম। অভিযানে তামাই গ্রামের হাজী আব্দুল হামিদ লাকীর ডাইং কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া হাজী আনোয়ার হোসেন মোল্লা, জাকারিয়া খান ও মুন্সী পান্না আহমেদের মালিকানাধীন তিনটি ডাইং কারখানাকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে চারটি কারখানাকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব ডাইং কারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলার অভিযোগ ছিল। 

আরও পড়ুন,গফরগাঁওয়ে চলন্ত তিস্তা এক্সপ্রেসের দুটি বগি বিচ্ছিন্ন

এতে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে কারখানার কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলোকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। বিষাক্ত বর্জ্য ও ধোঁয়ার কারণে বাড়ির আঙিনায় রান্নার চুলা জ্বালাতেও সমস্যায় পড়তেন তাঁরা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ এবং তাঁদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি প্রশাসনের নজরে আসার পর কারখানাগুলোর বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান জানান, পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করে বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়ার পর কারখানাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উন্মুক্ত স্থানে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার দায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে এবং সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নেই। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশদূষণ বন্ধে কারখানাগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়মিত তদারকি এবং আইন মেনে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।

বিষয় : অভিযান কারখানা কারখানা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

ক্রাইম এক্সপ্রেস

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


বেলকুচিতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে স্থানীয় পরিবারগুলোর দুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চারটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবেশদূষণ ও নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে কারখানাগুলোকে মোট দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের তামাই গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরিন জাহান। সোমবার সন্ধ্যার পর অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম। অভিযানে তামাই গ্রামের হাজী আব্দুল হামিদ লাকীর ডাইং কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া হাজী আনোয়ার হোসেন মোল্লা, জাকারিয়া খান ও মুন্সী পান্না আহমেদের মালিকানাধীন তিনটি ডাইং কারখানাকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে চারটি কারখানাকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব ডাইং কারখানার রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলার অভিযোগ ছিল। 

আরও পড়ুন,গফরগাঁওয়ে চলন্ত তিস্তা এক্সপ্রেসের দুটি বগি বিচ্ছিন্ন

এতে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে কারখানার কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলোকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। বিষাক্ত বর্জ্য ও ধোঁয়ার কারণে বাড়ির আঙিনায় রান্নার চুলা জ্বালাতেও সমস্যায় পড়তেন তাঁরা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ এবং তাঁদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি প্রশাসনের নজরে আসার পর কারখানাগুলোর বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান জানান, পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করে বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়ার পর কারখানাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উন্মুক্ত স্থানে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার দায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে এবং সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নেই। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশদূষণ বন্ধে কারখানাগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়মিত তদারকি এবং আইন মেনে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।


ক্রাইম এক্সপ্রেস

সম্পাদক : রিপন রুদ্র
নির্বাহী সম্পাদক:জাকিয়া সুলতানা (লাভলী)


কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বেলকুচিতে ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে অভিযান
0:00 0:00
1.0x